পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / আবেগ, নিরাপত্তা ও অনলাইন

আবেগ, নিরাপত্তা ও অনলাইন

ভালো বন্ধুত্ব কীভাবে গড়ে? ভাগ করা, পালা মানা আর “না” বলতে শেখা

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

ভালো বন্ধুত্ব কীভাবে গড়ে? ভাগ করা, পালা মানা আর “না” বলতে শেখা বিষয়ের রঙিন ধারণাচিত্র

বন্ধুত্ব ভাগ্যে হয় না, ছোট ছোট কাজে গড়ে ওঠে। কে তোমার খেলনা কেড়ে নেয় না, কে হারলে হাসে না, কে তোমার কথা মন দিয়ে শোনে, এগুলো দেখেই শিশুরা বন্ধু বেছে নেয়।

এই লেখা শিশু ও বড় দুজনের জন্য: শিশু চর্চা করবে, বড়রা উদাহরণ দেখাবেন আর পাশে থাকবেন।

🧠পড়তে পড়তে নিজেকে যাচাই করোশিশুর বন্ধু না হলে কী করব?উত্তর দেখো
ভাবনার সূত্র

ছোট দলে খেলার সুযোগ দিন, শিশুর পছন্দের কাজে (আঁকা, খেলা) অন্য শিশুদের সঙ্গে যুক্ত করুন, আর দলে ঢোকার বাক্য অনুশীলন করান: “আমি কি খেলতে পারি?” দীর্ঘদিন একা থাকলে শিক্ষক বা পরামর্শকের সাহায্য নিন।

বন্ধুত্বের ছয়টি অভ্যাস

প্রতিটি অভ্যাস চর্চায় শেখা যায়; কেউ জন্ম থেকে সব পারে না

প্রতিটি অভ্যাস চর্চায় শেখা যায়; কেউ জন্ম থেকে সব পারে না।

অভ্যাস ও তা দেখতে কেমন
অভ্যাসকাজে কেমন দেখায়বলার মতো একটি বাক্য
ভাগ করাটিফিন বা রং পেনসিল দেওয়া“চাইলে আমার লাল পেনসিলটা নাও।”
পালা মানাদোলনা বা খেলায় সময় ভাগ করা“পাঁচ গোনা পর তোমার পালা।”
দলে নেওয়াএকা দাঁড়িয়ে থাকা কাউকে ডাকা“আমাদের সঙ্গে খেলবে?”
ক্ষমা চাওয়ানিজের ভুল মেনে নেওয়া“ধাক্কা দেওয়া ঠিক হয়নি, দুঃখিত।”
ক্ষমা করারাগ পুষে না রাখা“ঠিক আছে, চলো আবার খেলি।”
হার মেনে নেওয়াজিতলে বিদ্রুপ না করা, হারলে রাগ না করা“ভালো খেলেছ!”

“না” বলাও বন্ধুত্বের অংশ

বন্ধু যদি কারও জিনিস লুকাতে, কাউকে খ্যাপাতে বা বিপজ্জনক কিছু করতে বলে, তখন রাজি না হওয়াটাই সাহস

বন্ধু যদি কারও জিনিস লুকাতে, কাউকে খ্যাপাতে বা বিপজ্জনক কিছু করতে বলে, তখন রাজি না হওয়াটাই সাহস। “না” বললে বন্ধুত্ব ভাঙে না; বরং সত্যিকারের বন্ধু তোমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করে।

  1. শান্ত গলায় স্পষ্ট করে বলো: “না, আমি এটা করব না।”
  2. কারণ ছোট করে বলো: “এতে ও কষ্ট পাবে।”
  3. অন্য কিছু প্রস্তাব দাও: “চলো বরং ফুটবল খেলি।”
  4. বারবার চাপ দিলে সরে যাও এবং বড় কাউকে জানাও।

কোন গোপন কথা রাখব, কোনটা বলব

বন্ধুর ভালো লাগা, মজার স্বপ্ন বা লজ্জার ছোট কথা গোপন রাখা আস্থার লক্ষণ

বন্ধুর ভালো লাগা, মজার স্বপ্ন বা লজ্জার ছোট কথা গোপন রাখা আস্থার লক্ষণ। কিন্তু কেউ যদি বলে কেউ তাকে মারছে, ভয় দেখাচ্ছে বা অস্বস্তিকর স্পর্শ করছে, অথবা সে নিজের ক্ষতি করতে চায়, সেটা গোপন রাখার কথা নয়। তখন একজন বিশ্বস্ত বড় মানুষকে জানানোই বন্ধুর কাজ।

  • মজার চমক (জন্মদিনের উপহার) গোপন রাখা যায়, কারণ পরে সবাই জানবে।
  • যে গোপন কথায় কারও ক্ষতি হচ্ছে, তা বড়দের জানাতে হয়।

বড়দের জন্য: কীভাবে পাশে থাকবেন

শিশুর বন্ধুত্বে বড়রা বিচারক না হয়ে কোচের ভূমিকা নিলে শিশু নিজে সমাধান শেখে

শিশুর বন্ধুত্বে বড়রা বিচারক না হয়ে কোচের ভূমিকা নিলে শিশু নিজে সমাধান শেখে।

  • ঝগড়ার পর জিজ্ঞেস করুন “তোমার কেমন লাগছে?” এবং “ওর কেমন লাগছে বলে মনে হয়?”
  • নতুন বন্ধুর সঙ্গে খেলার ছোট, নিরাপদ সুযোগ তৈরি করুন।
  • নিজে বন্ধুর সঙ্গে কেমন আচরণ করেন, শিশু সেটাই বেশি শেখে।
  • শিশু একা পড়ে যাচ্ছে বা বারবার ঠাট্টার শিকার হচ্ছে মনে হলে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

শিশুর বন্ধু না হলে কী করব?

ছোট দলে খেলার সুযোগ দিন, শিশুর পছন্দের কাজে (আঁকা, খেলা) অন্য শিশুদের সঙ্গে যুক্ত করুন, আর দলে ঢোকার বাক্য অনুশীলন করান: “আমি কি খেলতে পারি?” দীর্ঘদিন একা থাকলে শিক্ষক বা পরামর্শকের সাহায্য নিন।

বন্ধু রাগ করে কথা বন্ধ করলে কী করব?

কিছুটা সময় দাও, তারপর শান্তভাবে জিজ্ঞেস করো কী হয়েছে। নিজের ভুল থাকলে ক্ষমা চাও। বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া মেটানোর ধাপ নিয়ে আলাদা লেখাও আছে।

একজনের কি অনেক বন্ধু থাকতেই হবে?

না। কারও অনেক বন্ধু থাকে, কারও দু-একজন কাছের বন্ধু। সংখ্যার চেয়ে আস্থা আর সম্মানই বেশি জরুরি।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

আরও যাচাই করে পড়ো

নিচের সূত্রগুলো বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। জরুরি, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য স্থানীয় সরকারি নির্দেশও দেখো।

এবার হাতে-কলমে

এই পড়া থেকে পরের ধাপে যাও

লেখায় ধারণাটা বুঝে নাও, তারপর পসরা ভুবনে বিষয়টি খুঁজে দেখো বা কাছের আরেকটি বিষয় শেখো।

← সব লেখা · আবেগ, নিরাপত্তা ও অনলাইন ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ