পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / বর্ণ, যুক্তবর্ণ ও হাতের লেখা

বর্ণ, যুক্তবর্ণ ও হাতের লেখা

বাংলা বর্ণমালা শেখানো: কোন ক্রমে, আর কেন

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

বাংলা বর্ণমালায় ৫০টি বর্ণ: ১১টি স্বরবর্ণ আর ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ। প্রায় সব বাড়িতেই শেখানো শুরু হয় অ, আ, ই, ঈ দিয়ে, পরপর, ক্রম ধরে।

সেটা তালিকা মুখস্থ করার ভালো ক্রম, কিন্তু পড়তে শেখার ভালো ক্রম নয়। কারণ ক্রমের প্রথম কয়েকটা বর্ণ দিয়ে একটাও পুরো শব্দ বানানো যায় না, আর শিশু প্রথম শব্দটা নিজে পড়তে না পারা পর্যন্ত বুঝতেই পারে না সে কী শিখছে।

কোন ক্রমে শেখালে দ্রুত কাজ হয়

প্রথমে এমন কয়েকটা ব্যঞ্জন বেছে নিন যা দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে শব্দ হয়: ক, ব, ম, ল, র, আর সঙ্গে আ-কার।

ক + আ-কার = কা, তারপর কাকা। ম + আ = মা। ব + আ = বাবা। তিনটি বর্ণ শেখার পরেই শিশু তিনটে সত্যিকারের শব্দ পড়তে পারছে, আর সেটাই তাকে পরেরটা শিখতে টানে।

ক্রম ধরে পুরো তালিকা পরে আসবে। ছড়া বা গানের সুরে তালিকাটা এমনিতেই মুখস্থ হয়ে যায়, কিন্তু পড়ার দক্ষতা আসে শব্দ থেকে।

যে বর্ণগুলো একই রকম শোনায়

বাংলায় কয়েকটি বর্ণের উচ্চারণ প্রায় এক, যদিও বানানে আলাদা: ই ও ঈ, উ ও ঊ, জ ও য, ন ও ণ, শ ষ ও স।

ছোট বয়সে এগুলো একসঙ্গে শেখাতে গেলে গুলিয়ে যায়। ভালো হয় প্রতিটি জোড়ার একটি আগে শেখানো, শব্দে ব্যবহার করা, আর অন্যটি পরে বানানের নিয়ম হিসেবে আনা।

মাত্রা দেওয়ার অভ্যাসটাও গোড়াতেই গড়ে নেওয়া ভালো। বাংলা বর্ণের বেশিরভাগেরই মাথায় টানা মাত্রা থাকে, আর সেই লাইনটাই লেখাকে সারিবদ্ধ রাখে।

কার আর ফলা কখন আনবেন

কার হলো স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ, যা ব্যঞ্জনের সঙ্গে জোড়ে: আ-কার, ই-কার, উ-কার এবং আরও কয়েকটি। এগুলো ছাড়া প্রায় কোনো শব্দই লেখা যায় না, তাই খুব তাড়াতাড়ি আনতে হয়।

ই-কার বর্ণের আগে বসে, আ-কার পরে, আর ও-কার দুই পাশে ভাগ হয়ে যায়। এই বসার নিয়মটাই শিশুদের কাছে সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর, আর এটা মুখে বলার চেয়ে চোখে দেখানো ভালো।

ফলা আসে পরে: র-ফলা, য-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা। এগুলো ব্যঞ্জনের সঙ্গে ব্যঞ্জন জোড়ার সহজতম রূপ, আর যুক্তবর্ণে ঢোকার আগের ধাপ।

কতক্ষণ, আর কীভাবে

দিনে দশ থেকে পনেরো মিনিট যথেষ্ট, তবে রোজ। এক ঘণ্টা সপ্তাহে একদিনের চেয়ে দশ মিনিট রোজ অনেক বেশি কাজ করে।

একটা বর্ণ শেখানোর তিনটে ধাপ: দেখা, শোনা, আর হাতে লেখা। তিনটে একসঙ্গে হলে মনে থাকে সবচেয়ে ভালো, আর হাতে লেখার ধাপটাই সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

বাংলা বর্ণমালায় কয়টি বর্ণ?

৫০টি: ১১টি স্বরবর্ণ আর ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ। এর সঙ্গে থাকে কার, ফলা আর যুক্তবর্ণ, যেগুলো নতুন বর্ণ নয়, বরং বর্ণ জোড়ার নিয়ম।

কত বছর বয়সে বর্ণ শেখানো শুরু করা উচিত?

বেশিরভাগ শিশু চার থেকে পাঁচ বছরে বর্ণের আকার চিনতে শুরু করে। তার আগে শব্দ শোনা আর ছড়া বলাই বেশি কাজে দেয়।

ই আর ঈ-এর পার্থক্য কীভাবে বোঝাব?

উচ্চারণে আজকাল পার্থক্য প্রায় নেই, তাই নিয়ম হিসেবে শেখানোই বাস্তবসম্মত। প্রথমে ই দিয়ে শব্দ পড়তে শিখুক, ঈ আসুক বানানের ধাপে।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

একই গুচ্ছের বাকি লেখা

← সব লেখা · বর্ণ, যুক্তবর্ণ ও হাতের লেখা ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ