পসরা / লেখা / বর্ণ, যুক্তবর্ণ ও হাতের লেখা
বর্ণ, যুক্তবর্ণ ও হাতের লেখা
শিশুর হাতের লেখা ভালো করার উপায়
হাতের লেখা খারাপ হলে বেশিরভাগ বাড়িতে একটাই দাওয়াই দেওয়া হয়: আরও বেশি লেখো। কিন্তু ভুল অভ্যাস নিয়ে বেশি লিখলে ভুলটাই পাকা হয়।
বাংলা হাতের লেখায় তিনটে জিনিস ঠিক থাকলে বাকিটা নিজে থেকেই গোছায়: মাত্রা, স্ট্রোকের ক্রম, আর ধরা ও বসার ভঙ্গি।
মাত্রাই লেখাকে সারিবদ্ধ রাখে
বাংলা বর্ণের বেশিরভাগেরই মাথায় টানা লাইন, যাকে বলে মাত্রা। ইংরেজিতে এমন কিছু নেই, তাই এই একটা জিনিসের গুরুত্ব প্রায়ই কম দেওয়া হয়।
মাত্রা এক সরলরেখায় না পড়লে গোটা শব্দটা এবড়োখেবড়ো দেখায়, বর্ণগুলো আলাদাভাবে যত সুন্দরই হোক।
অনুশীলনের সহজ উপায়: খাতার লাইনটাকেই মাত্রা ধরা। প্রথমে মাত্রাটা টেনে, তারপর নিচে বর্ণ ঝুলিয়ে দেওয়া - অনেক শিশুর কাছে এই ক্রমটা সহজ লাগে।
কয়েকটি বর্ণে মাত্রা নেই বা আংশিক: এ, ঐ, ও, ঔ, ঙ, ঞ, ৎ। এগুলো আলাদা করে দেখিয়ে দিলে শিশু অকারণে সবখানে লাইন টানে না।
স্ট্রোকের ক্রম
প্রতিটি বর্ণ কোথা থেকে শুরু করে কোন দিকে টানতে হয়, তার একটা স্বাভাবিক ক্রম আছে। ক্রম ঠিক থাকলে হাত কম নড়ে, লেখা দ্রুত হয় আর আকার স্থির থাকে।
ভুল ক্রমে লেখা বর্ণ দেখতে ঠিক লাগতে পারে, কিন্তু দ্রুত লিখতে গেলেই ভেঙে পড়ে। পরীক্ষার হলে লেখা হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ এটাই।
ট্রেস করা এখানে সবচেয়ে কাজের: পাতলা করে ছাপা বর্ণের উপর দিয়ে হাত চালানো, তারপর ধীরে ধীরে সাহায্য কমানো।
ধরা, বসা আর কাগজের কোণ
পেন্সিল আঙুলের ডগায় ধরতে হয়, মুঠো করে নয়। মুঠো করে ধরলে আঙুল নয়, পুরো কবজি নড়ে, আর কবজি দিয়ে সূক্ষ্ম আকার আঁকা যায় না।
পিঠ সোজা, দুই পা মাটিতে, খাতা সামান্য কাত। খুব ছোট বাচ্চার জন্য মোটা পেন্সিল ধরা সহজ।
দিনে পাঁচ মিনিটের মনোযোগী অনুশীলন আধা ঘণ্টার অমনোযোগী লেখার চেয়ে ভালো। ক্লান্ত হাতে লেখা অভ্যাসটাই নষ্ট করে।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
হাতের লেখা ভালো করতে কতদিন লাগে?
নিয়মিত অল্প অনুশীলনে কয়েক সপ্তাহেই পার্থক্য দেখা যায়। তবে অভ্যাস পাকা হতে কয়েক মাস লাগে, আর সেটা স্বাভাবিক।
বাঁহাতি শিশুর জন্য আলাদা কিছু করতে হবে?
খাতাটা উল্টো দিকে সামান্য কাত করলে হাতে কালি লাগে না আর লেখাও দেখা যায়। হাত বদলানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।