পসরা / লেখা / বর্ণ, যুক্তবর্ণ ও হাতের লেখা
বর্ণ, যুক্তবর্ণ ও হাতের লেখা
যুক্তবর্ণ কীভাবে ভাঙে: ক্ষ, জ্ঞ আর বাকিগুলো
যুক্তবর্ণ দেখতে আলাদা বর্ণের মতো, কিন্তু আসলে তা নয়। পরপর দুটো ব্যঞ্জন যখন মাঝে কোনো স্বর ছাড়াই উচ্চারিত হয়, তখন লেখায় তারা জোড়া লেগে যায়।
শিশুরা আটকায় এখানেই: তারা যুক্তবর্ণকে নতুন আকার হিসেবে মুখস্থ করার চেষ্টা করে। ভাঙাটা দেখিয়ে দিলে সংখ্যাটা পঞ্চাশ থেকে নেমে আসে গুটিকয় নিয়মে।
যেগুলোর চেহারা দেখলেই বোঝা যায়
ন্ত = ন + ত। যেমন: অন্ত, শান্ত, দন্ত।
স্থ = স + থ। যেমন: অবস্থা, স্থান, গৃহস্থ।
ষ্ট = ষ + ট। যেমন: কষ্ট, স্পষ্ট, দৃষ্টি।
ন্ধ = ন + ধ। যেমন: অন্ধ, গন্ধ, বন্ধু।
ঙ্গ = ঙ + গ। যেমন: অঙ্গ, রঙ্গ, বঙ্গ।
শ্র = শ + র-ফলা। যেমন: শ্রম, আশ্রয়, শ্রেণি।
এই ধরনের যুক্তবর্ণে দুটো বর্ণই মোটামুটি চেনা যায়, তাই ভাঙাটা দেখিয়ে দিলেই শিশু নিজে পরেরগুলো ধরতে পারে।
যেগুলোর চেহারা আন্দাজ করা যায় না
ক্ষ = ক + ষ। চেহারায় ক-ও নেই, ষ-ও নেই। যেমন: ক্ষমা, রক্ষা, লক্ষ্য।
জ্ঞ = জ + ঞ। উচ্চারণ হয় "গ্গ"-এর মতো, যা বানানের সঙ্গে মেলে না। যেমন: জ্ঞান, বিজ্ঞান, অজ্ঞ।
হ্ম = হ + ম। যেমন: ব্রহ্ম, চিহ্ন।
এই তিনটে আলাদা করে মুখস্থ করাতে হয়, কারণ এখানে নিয়ম কাজ করে না। বাকিগুলো নিয়মেই চলে।
ফলা আর যুক্তবর্ণের পার্থক্য
র-ফলা, য-ফলা, ব-ফলা আর ম-ফলা আসলে যুক্তবর্ণেরই সহজতম রূপ: একটা ব্যঞ্জনের সঙ্গে আরেকটা ব্যঞ্জন, কিন্তু দ্বিতীয়টা একটা ছোট চিহ্নে নেমে এসেছে।
প্র = প + র-ফলা। ক্য = ক + য-ফলা। স্ব = স + ব-ফলা। শ্ম = শ + ম-ফলা।
ফলা আগে শেখালে যুক্তবর্ণ অনেক কম ভয়ের জিনিস মনে হয়, কারণ ততক্ষণে ব্যঞ্জনে ব্যঞ্জন জোড়ার ধারণাটা তৈরি হয়ে গেছে।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
বাংলায় যুক্তবর্ণ কয়টি?
নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, কারণ যেকোনো দুই ব্যঞ্জন জুড়তে পারে। প্রচলিত ও নিয়মিত ব্যবহৃত যুক্তবর্ণের সংখ্যা কয়েকশো, তবে রোজকার লেখায় লাগে অনেক কম।
ক্ষ কি আলাদা বর্ণ?
না। ক্ষ = ক + ষ। পুরনো বইয়ে একে বর্ণমালার শেষে আলাদা করে দেখানো হতো বলে অনেকে আলাদা বর্ণ ভাবেন।
জ্ঞ-এর উচ্চারণ কী?
বাংলায় "গগ"-এর মতো শোনায়, যেমন জ্ঞান উচ্চারিত হয় "গ্গান"। বানান জ + ঞ, কিন্তু উচ্চারণ আলাদা - এই অমিলটাই বিভ্রান্তির কারণ।