পসরা / লেখা / আবেগ, নিরাপত্তা ও অনলাইন
আবেগ, নিরাপত্তা ও অনলাইন
শিশুর রাগ সামলানো: কী কাজে দেয়, কী দেয় না
রাগ খারাপ কিছু নয়। এটা একটা স্বাভাবিক আবেগ, আর প্রায় সব শিশুরই হয়। সমস্যা হয় তখন, যখন রাগ সামলানোর কোনো উপায় শেখা থাকে না।
রাগ উঠলে শরীর নিজেই কিছু করতে চায়: হৃৎস্পন্দন বাড়ে, শ্বাস ছোট আর দ্রুত হয়, পেশি টান টান হয়ে যায়। শান্ত হওয়ার উপায়গুলো কাজ করে ঠিক এই শারীরিক অবস্থাটাকে বদলে দিয়ে।
যা শান্ত করে
ধীরে শ্বাস নেওয়া। রেগে গেলে শ্বাস দ্রুত আর ছোট হয়। ইচ্ছে করে ধীরে শ্বাস নিলে শরীর বুঝে নেয় বিপদ কেটে গেছে। ছোট শিশুকে বলা যায় "মোমবাতি নেভানোর মতো করে ফুঁ দাও"।
দশ পর্যন্ত গোনা। গোনাটা নিজে কিছু করে না, কিন্তু যে কয়েক সেকেন্ড সময় সেটা কিনে দেয়, সেটাই আসল। ওই সময়টুকুতেই মাথা ফিরে আসে।
একটু হাঁটা বা নড়াচড়া। শরীরে জমা টানটান ভাবটা খরচ হয়ে যায়, আর তারপর একই কথা আর তত রাগ ধরায় না।
লিখে ফেলা বা এঁকে ফেলা। গোছাতে গেলেই ঘটনাটা একটু দূর থেকে দেখা যায়।
বিশ্বাস করা কাউকে বলা। বলে ফেলা মানে সমাধান নয়, ভার নামানো।
এক গ্লাস পানি খাওয়া। পুরনো কৌশল, আর কাজ করে: গিলতে গিয়ে শ্বাস থামে, আর হাতটা এক মুহূর্তের জন্য অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে।
যা রাগ বাড়ায়
চিৎকার করে উত্তর দেওয়া। চিৎকার সামনের মানুষটাকেও চিৎকার করায়, আর দুজনেই তখন শুনতে না পাওয়ার প্রতিযোগিতা করে।
জিনিস ছোড়া বা ভাঙা। ভাঙার শব্দে এক সেকেন্ড আরাম লাগে, তারপর ভাঙা জিনিসটা থেকে যায় আর তা নিয়ে নতুন ঝামেলা শুরু হয়।
মনে মনে বারবার ঘটনাটা চালানো। একই দৃশ্য বারবার মনে করলে শরীর প্রতিবার নতুন করে রেগে যায়, আর রাগটা তখন ঘটনার চেয়ে বেশি বাঁচে।
অন্যদের কাছে নালিশ ছড়ানো। একজনকে বলা ভার নামায়, দশজনকে বলা দল বানায়।
খালি পেটে বা না ঘুমিয়ে ঝগড়া চালিয়ে যাওয়া। খিদে আর ক্লান্তি রাগের জ্বালানি, আর এই অবস্থায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তই ভালো হয় না।
বড়দের ভূমিকা
রাগের মুহূর্তে যুক্তি দেওয়া কাজ করে না। শিশু তখন শোনার অবস্থাতেই থাকে না, আর ব্যাখ্যা করতে গেলে সেটাই নতুন ঝগড়ার উপকরণ হয়ে ওঠে।
প্রথম কাজ শান্ত হতে দেওয়া, আলোচনা পরে। "এখন থাক, একটু পরে কথা বলি" - এটুকুই যথেষ্ট।
আবেগটা অস্বীকার না করা জরুরি। "এতে রাগ করার কী আছে" বললে শিশু শেখে যে তার অনুভূতিটা ভুল। "তুমি রেগে আছ, সেটা বুঝতে পারছি" বললে শেখে যে অনুভূতিটা ঠিক আছে, কিন্তু কাজটা বেছে নিতে হবে।
ঘরে একটা শান্ত হওয়ার কোণ রাখা যায় - একটা নির্দিষ্ট জায়গা যেখানে গিয়ে কেউ কিছু বলবে না। এটা শাস্তির জায়গা নয়, আর সেই পার্থক্যটা পরিষ্কার থাকা দরকার।
সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা নকল থেকে আসে। বড়রা রেগে গিয়ে কী করেন, শিশু সেটাই শেখে।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
শিশু রেগে গেলে শাস্তি দেওয়া উচিত?
রাগ করাটা শাস্তির বিষয় নয়, রাগের সময় কী করল সেটা আলোচনার বিষয়। আর আলোচনাটা শান্ত হওয়ার পরে, তখন নয়।
"শান্ত হওয়ার কোণ" আর "টাইম আউট" কি এক?
না। শান্ত হওয়ার কোণ শিশুর নিজের জন্য, সে নিজে যেতে পারে আর নিজেই ফিরতে পারে। শাস্তি হিসেবে পাঠালে সেটা আর কাজ করে না।
বারবার রাগের বিস্ফোরণ হলে কী করব?
কখন হচ্ছে সেটা খেয়াল করা ভালো - খিদে, ক্লান্তি বা নির্দিষ্ট কোনো পরিস্থিতিতে কিনা। প্যাটার্ন পাওয়া গেলে কারণটা আগেই সরানো যায়।