পসরা / লেখা / আবেগ, নিরাপত্তা ও অনলাইন
আবেগ, নিরাপত্তা ও অনলাইন
শিশুর নিরাপত্তা: ভালো ও খারাপ স্পর্শ কীভাবে শেখাবেন
এই আলোচনাটা অনেক বাড়িতেই এড়িয়ে যাওয়া হয়, কারণ মনে হয় শিশুকে ভয় পাইয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ভয় দেখানো আর তথ্য দেওয়া এক জিনিস নয়।
আগুন নিয়ে আমরা শিশুকে সতর্ক করি, রাস্তা পার হওয়া শেখাই - আর তাতে সে আগুন বা রাস্তাকে ভয় পায় না, সাবধান হয়। এটাও তেমনই একটা নিরাপত্তার কথা।
শরীরের উপর নিজের অধিকার
শুরুর কথাটা সহজ: তোমার শরীরটা তোমার। কাউকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে না করলে না বলা যায়, এমনকি আত্মীয়কেও।
জোর করে আদর করানো বা "মামাকে চুমু দাও" বলে চাপ দেওয়া ছোট ব্যাপার মনে হলেও, এতে শিশু শেখে যে বড়রা বললে অস্বস্তি হলেও রাজি হতে হয়। ঠিক এই শিক্ষাটাই পরে বিপদের কাজে লাগে।
বিকল্পটা সহজ: হাত মেলানো, হাই বলা বা হাত নাড়া - এগুলোও ভদ্রতা, আর শিশু নিজে বেছে নিতে পারে।
নিয়মটা যতটা সম্ভব সরল রাখুন
শরীরের যেসব জায়গা অন্তর্বাসে ঢাকা থাকে, সেখানে কারও ছোঁয়ার কথা নয়। ব্যতিক্রম দুটো: পরিষ্কার করা বা সাজানোর সময় বাবা-মা, আর অসুখে বাবা-মায়ের সামনে ডাক্তার।
শরীরের অংশগুলোর আসল নাম শেখানো ভালো। সাংকেতিক নাম ব্যবহার করলে শিশু কিছু বলতে চাইলেও পরিষ্কার করে বলতে পারে না, আর বড়রাও বুঝতে দেরি করে ফেলেন।
নিয়মটা শুধু অচেনা মানুষের জন্য নয়, আর এটাই সবচেয়ে জরুরি কথা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষটা পরিচিত হয়, তাই "অচেনা লোক থেকে সাবধান" শেখানো যথেষ্ট নয়।
যে কথাটা শুনলেই জানাতে হবে
সবচেয়ে কার্যকর একটা সংকেত শেখানো যায়: কেউ যদি বলে "এটা কাউকে বোলো না", তাহলে সেটাই বলার সবচেয়ে বড় কারণ।
গোপন রাখাটা তাদের দরকার, শিশুর নয়। তাই এই একটা কথায় কারও কথা রাখতে হয় না - যত বড় বা যত কাছের মানুষই বলুক।
তিনটে ধাপ শেখানো যায়: জোরে "না" বলা, সেখান থেকে সরে যাওয়া, আর বিশ্বাস করা একজন বড়কে বলা।
শিশুকে দুই-তিনজন বিশ্বাসী বড় মানুষের নাম ঠিক করে রাখতে বলা ভালো, যাতে একজনকে না পেলে অন্যজন থাকে।
সবচেয়ে জরুরি প্রতিশ্রুতিটা বড়দের দিক থেকে: সে যাই বলুক, তাকে বিশ্বাস করা হবে আর বকা হবে না। যদি শিশু ভাবে তাকে দোষ দেওয়া হবে, সে চুপ করে থাকবে।
হারিয়ে গেলে আর জরুরি নম্বর
ভিড়ে হারিয়ে গেলে সবচেয়ে ভালো কাজ হলো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা। দুজনেই খুঁজতে থাকলে দেখা হওয়া কঠিন, আর এক জায়গায় থাকলে খোঁজাটা একজনের কাজ হয়ে যায়।
সাহায্য চাইতে হবে দায়িত্বে থাকা কারও কাছে: দোকানদার, নিরাপত্তাকর্মী বা পুলিশ। যে কারও সঙ্গে কোথাও চলে যাওয়া নয়।
শিশুকে অন্তত একটা পরিচিত ফোন নম্বর আর নিজের পুরো নাম মুখস্থ করানো দরকার।
বাংলাদেশে জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯, দেশের যেকোনো জায়গা থেকে বিনামূল্যে। শিশুকে এটা শেখানো আর কখন ব্যবহার করতে হয় তা বলে দেওয়া দুটোই দরকার।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
কত বয়স থেকে এসব শেখানো উচিত?
তিন-চার বছর থেকেই শরীরের উপর নিজের অধিকারের কথাটা সহজ ভাষায় বলা যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্তারিত যোগ করা যায়।
শিশু ভয় পেয়ে যাবে না?
যদি নিয়ম হিসেবে বলা হয়, ভয় দেখিয়ে নয়, তবে না। রাস্তা পার হওয়া শেখানোর মতোই - তথ্যটা ক্ষমতা দেয়, ভয় নয়।
শিশু কিছু বললে প্রথমে কী করব?
শান্তভাবে শোনা আর বিশ্বাস করা। বকা না দেওয়া, আর তাকে বুঝতে দেওয়া যে বলাটা ঠিক কাজ হয়েছে। প্রশ্ন দিয়ে চেপে ধরা নয়।