পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / আবেগ, নিরাপত্তা ও অনলাইন

আবেগ, নিরাপত্তা ও অনলাইন

শিশুর অনলাইন নিরাপত্তা: কী শেখাবেন, কী নিয়ম করবেন

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

স্ক্রিনের ওপাশে কে আছে, শিশু দেখতে পায় না। অনলাইন নিরাপত্তার প্রায় পুরো ব্যাপারটাই এই একটা বাক্যের ভেতরে।

নিষেধ করে দেওয়া সমাধান নয়, কারণ পড়াশোনা থেকে বন্ধুত্ব - অনেক কিছুই এখন অনলাইনে। নিয়ম আর কথা বলাটাই বেশি কাজে দেয়।

ব্যক্তিগত তথ্য

নিয়মটা সহজ: নাম, স্কুলের নাম, বাসার ঠিকানা, ছবি আর ফোন নম্বর - এগুলো অনলাইনের কারও সঙ্গে ভাগ করা নয়।

আলাদাভাবে নিরীহ মনে হলেও কয়েকটা তথ্য মিলে গেলে কাউকে বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায়। স্কুলের ইউনিফর্ম পরা ছবি আর এলাকার নাম - এটুকুই যথেষ্ট।

ছবি একবার চলে গেলে আর ফেরানো যায় না। কপি হয়, ছড়ায়, বদলেও ফেলা যায়।

গেমের ভেতরের বন্ধুও অনলাইনের মানুষ। "অনেক দিনের বন্ধু" বলে কিছু নেই সেখানে - ধৈর্য ধরে বিশ্বাস অর্জন করাটাই অনেক সময় ফাঁদের প্রথম ধাপ।

কোড, পাসওয়ার্ড আর প্রতারণা

বন্ধুর নামে আসা "আমার অ্যাকাউন্টের কোডটা তোমার ফোনে যাবে, পাঠিয়ে দাও" ধরনের মেসেজ প্রায় সব সময়ই হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে আসে।

নিয়ম: কোড কখনো কাউকে পাঠানো নয়, আর যাচাই করতে হলে অন্য পথে - সরাসরি ফোন করে।

পাসওয়ার্ড আলাদা আর লম্বা হওয়া দরকার। একই পাসওয়ার্ড সব জায়গায় দিলে একটা ফাঁস হলেই সব ফাঁস। জন্মতারিখ পাসওয়ার্ড নয়, ইঙ্গিত।

জরুরি ভাব দেখিয়ে তাড়াহুড়ো করানো সবচেয়ে পুরনো কৌশল। তাড়া থাকলেই থেমে যাওয়া - এটাই সবচেয়ে কাজের নিয়ম।

সাইবার বুলিং আর ভুয়া খবর

কেউ অনলাইনে অপমান করলে উত্তর না দেওয়াই ভালো, কারণ উত্তরে ঝগড়া বড় হয় আর নিজের লেখাটাও স্ক্রিনশট হয়ে থেকে যায়।

তিনটে ধাপ: স্ক্রিনশট রাখা, ব্লক করা, আর বড়দের দেখানো। চুপচাপ গ্রুপ ছেড়ে দিলে ওরা পরের কাউকে নিয়ে একই কাজ করবে।

ভুয়া খবরের ব্যাপারে একটা নিয়ম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ করে: যত অবিশ্বাস্য দাবি, তত বেশি যাচাই দরকার। লাইকের সংখ্যা সত্যের প্রমাণ নয় - অবাক করা জিনিসই মানুষ বেশি শেয়ার করে।

যাচাই না করে পাঠানো মানে ছড়ানোর কাজে যোগ দেওয়া।

ঘরের নিয়ম

ডিভাইস খোলা জায়গায় ব্যবহার করার নিয়ম করা যায়, বিশেষ করে ছোট বয়সে। এতে নজরদারির দরকার পড়ে কম।

গেমে বা অ্যাপে কেনাকাটা বড়দের অনুমতি ছাড়া নয়। গেমের ভেতরের কেনাকাটা এমনভাবেই বানানো যাতে থামা কঠিন হয়, আর ছোট অঙ্ক বারবার হলে বড় হয়ে যায়।

স্ক্রিন টাইমের চেয়ে বেশি জরুরি স্ক্রিনে কী হচ্ছে। এক ঘণ্টা কিছু বানানো আর এক ঘণ্টা স্ক্রল করা এক জিনিস নয়।

সবচেয়ে দরকারি নিয়মটা বড়দের দিক থেকে: কিছু ভুল হলে জানালে বকা হবে না। এই নিশ্চয়তাটুকু না থাকলে শিশু লুকোবে, আর তখন সাহায্য করার সুযোগও থাকবে না।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

শিশুকে কত বছর বয়সে ফোন দেওয়া উচিত?

নির্দিষ্ট বয়স নেই, কিন্তু ফোন দেওয়ার আগে নিয়মগুলো নিয়ে কথা বলে নেওয়া দরকার। ফোনের সঙ্গে নিয়মটা একসঙ্গেই আসা ভালো।

সাইবার বুলিং হলে প্রথমে কী করব?

স্ক্রিনশট রাখা, ব্লক করা, আর বড়দের জানানো। পাল্টা উত্তর না দেওয়াই ভালো।

শিশুর অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড কি বড়দের জানা উচিত?

ছোট বয়সে সাধারণত হ্যাঁ, আর সেটা শিশুকে জানিয়েই। লুকিয়ে দেখা ধরা পড়লে বিশ্বাসটাই নষ্ট হয়, আর তখন কিছু হলে সে আর বলবে না।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

একই গুচ্ছের বাকি লেখা

← সব লেখা · আবেগ, নিরাপত্তা ও অনলাইন ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ