পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / টাকা, বাজেট ও সুদ

টাকা, বাজেট ও সুদ

শিশুকে টাকার হিসাব শেখানো: কোন বয়সে কোনটা

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

টাকা নিয়ে কথা বলাটা অনেক বাড়িতেই বড়দের বিষয় হিসেবে থেকে যায়, আর শিশু প্রথম সত্যিকারের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেয় এমন বয়সে যখন তার হাতে কোনো অভ্যাস তৈরি হয়নি।

অথচ টাকার শিক্ষা গণিতের মতোই ধাপে ধাপে শেখানো যায়, আর প্রতিটি ধাপে একটা করে ধারণা যথেষ্ট।

চার থেকে ছয়: নোট চেনা আর অপেক্ষা

এই বয়সে দুটো জিনিস শেখার মতো: কোন নোট কত, আর জিনিস কিনতে টাকা লাগে।

দোকানে নিজের হাতে টাকা দিতে দেওয়া আর বাকি টাকা গুনে নিতে বলা - এটুকুই যথেষ্ট। হিসাব ভুল হলে সেটাই শেখার জায়গা।

অপেক্ষা করতে শেখানো এই বয়সের সবচেয়ে বড় দক্ষতা। আজ একটা চকলেট, নাকি তিন দিন অপেক্ষা করে বড় একটা - প্রশ্নটা ছোট, কিন্তু অভ্যাসটা সারা জীবনের।

সাত থেকে নয়: চাই বনাম দরকার

এটাই টাকার শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, আর সবচেয়ে কঠিনটাও।

চাল-ডাল, স্কুলের বই, ওষুধ, বাড়িভাড়া - এগুলো ছাড়া চলে না। নতুন মোবাইল গেম, বন্ধুর মতো দামি জুতা, প্রতিদিন বাইরে খাওয়া - এগুলো ছাড়া চলে।

সীমারেখাটা সব সময় পরিষ্কার নয়, আর সেটাই আলোচনার সবচেয়ে ভালো জায়গা। জুতা দরকার, কিন্তু দামি ব্র্যান্ডের জুতা চাই - পার্থক্যটা জিনিসে নয়, দামে।

মাটির ব্যাংক এই বয়সে কাজে আসে, তবে শর্ত একটাই: একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে। লক্ষ্যহীন জমানো কয়েক সপ্তাহের বেশি টেকে না।

দশ থেকে বারো: প্রথম বাজেট

নিয়মিত হাতখরচ দেওয়া শুরু করার সময় এটাই, আর অঙ্কের চেয়ে নিয়মিত হওয়াটা বেশি জরুরি। প্রতি সপ্তাহে একই দিনে একই পরিমাণ।

তিনটে ভাগ করতে শেখানো যায়: খরচ, সঞ্চয়, আর সাহায্য। অনুপাত পরিবার ঠিক করবে, কিন্তু তিনটে ভাগ থাকাটাই ধারণাটা তৈরি করে।

স্থায়ী আর পরিবর্তনশীল খরচের পার্থক্যটাও এখানে আনা যায়। বাড়িভাড়া প্রতি মাসে একই, বাজার-সদাই কম-বেশি হয়। যখন টান পড়ে, পরিবর্তনশীল খরচই আগে কমে।

এই বয়সেই ঘাটতি আর উদ্বৃত্ত শব্দ দুটো চালু করা যায়। খরচ আয়ের চেয়ে বেশি হলে ঘাটতি, কম হলে উদ্বৃত্ত।

তেরো থেকে পনেরো: সুদ, ঝুঁকি আর প্রতারণা

সুদের হিসাব আগে আনলে তা শুধু অঙ্ক হয়ে থাকে। কিন্তু যে শিশু নিজে কয়েক মাস জমিয়েছে, তার কাছে চক্রবৃদ্ধি সুদ একটা সত্যিকারের ব্যাপার।

সরল সুদে প্রতি বছর একই অঙ্ক যোগ হয়। চক্রবৃদ্ধিতে সুদের উপরেও সুদ বসে, তাই সময় যত লম্বা, পার্থক্য তত বড়। ১০,০০০ টাকা বছরে ১২ শতাংশে ২০ বছরে সরল সুদে দেয় ২৪,০০০, চক্রবৃদ্ধিতে ৮৬,৪০০-এর বেশি।

একই সূত্র ধার করার বেলায় উল্টো দিকে কাজ করে, আর সেটা দেখানোটাই আসল শিক্ষা।

এই বয়সেই প্রতারণা চেনানোর সময়। একটা নিয়ম মনে রাখলেই বেশিরভাগ ফাঁদ এড়ানো যায়: যে প্রস্তাবে ঝুঁকি নেই অথচ লাভ অস্বাভাবিক বেশি, সেটা প্রস্তাব নয়, ফাঁদ।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

শিশুকে হাতখরচ দেওয়া উচিত কি?

দিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, আর ভুল করার খরচও ছোট থাকে। অঙ্কের চেয়ে নিয়মিত হওয়াটা বেশি জরুরি।

কাজের বিনিময়ে টাকা দেওয়া ঠিক আছে?

ঘরের নিজের কাজের জন্য নয় - সেগুলো দায়িত্ব। বাড়তি কোনো কাজের জন্য দেওয়া যেতে পারে, তাতে আয় আর পরিশ্রমের সম্পর্কটা তৈরি হয়।

কত বছর বয়সে ব্যাংক হিসাব খোলা যায়?

বাংলাদেশে অভিভাবকের সঙ্গে যৌথভাবে শিশুর নামে হিসাব খোলা যায়। নিয়ম ব্যাংকভেদে আলাদা, তাই নিজের ব্যাংকে জেনে নেওয়াই ভালো।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

একই গুচ্ছের বাকি লেখা

← সব লেখা · টাকা, বাজেট ও সুদ ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ