পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / ঋতু, নদী ও দুর্যোগ

ঋতু, নদী ও দুর্যোগ

বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে? উৎপাদক, খাদক, বিয়োজক ও বাংলাদেশের উদাহরণ

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে? উৎপাদক, খাদক, বিয়োজক ও বাংলাদেশের উদাহরণ বিষয়ের রঙিন ধারণাচিত্র

একটা পুকুরকে শুধু পানি ভাবলে ভুল হবে। তাতে আছে শ্যাওলা, মাছ, ব্যাঙ, পোকা, তলার কাদা, সূর্যের আলো আর পানিতে গলে থাকা অক্সিজেন। এরা সবাই একে অপরের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে। এই পুরো ব্যবস্থাটাই একটি বাস্তুতন্ত্র।

🧠পড়তে পড়তে নিজেকে যাচাই করোবাস্তুতন্ত্র কত প্রকার?উত্তর দেখো
ভাবনার সূত্র

মূলত দুই প্রকার: স্থলজ (বন, মরুভূমি, তৃণভূমি) এবং জলজ (পুকুর, নদী, সাগর)। জলজকে আবার মিঠাপানি ও লোনাপানিতে ভাগ করা হয়।

বাস্তুতন্ত্রের দুই ধরনের উপাদান

জড় উপাদান হলো আলো, পানি, বাতাস, মাটি, খনিজ ও তাপমাত্রা

জড় উপাদান হলো আলো, পানি, বাতাস, মাটি, খনিজ ও তাপমাত্রা। জীব উপাদান হলো সেখানে বাস করা সব জীব। জড় উপাদান বদলালে জীবেরাও বদলায়: পুকুর শুকিয়ে গেলে মাছ থাকে না, লবণাক্ততা বাড়লে গাছের ধরন বদলায়।

জীব উপাদানের তিনটি ভূমিকা
ভূমিকাকী করেপুকুরের উদাহরণবনের উদাহরণ
উৎপাদকসূর্যের আলো দিয়ে নিজের খাবার তৈরি করেশ্যাওলা, কচুরিপানাসুন্দরী, গেওয়া গাছ
প্রথম স্তরের খাদকউৎপাদক খায়ছোট পোকা, রুই মাছহরিণ
উচ্চ স্তরের খাদকঅন্য প্রাণী খায়বোয়াল, মাছরাঙাবাঘ
বিয়োজকমৃত জীব ও বর্জ্য পচায়ব্যাকটেরিয়াছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া

শক্তি এক দিকে চলে, পুষ্টি ঘুরে আসে

বাস্তুতন্ত্রে শক্তি আসে সূর্য থেকে

বাস্তুতন্ত্রে শক্তি আসে সূর্য থেকে। উৎপাদক সেই শক্তি খাবারে ধরে রাখে, খাদক খেয়ে তা পায়। প্রতিটি ধাপে বেশির ভাগ শক্তি তাপ হিসেবে হারিয়ে যায়, তাই ওপরের দিকে খাদকের সংখ্যা কম হয়: হাজার হাজার হরিণের বিপরীতে বাঘ অল্প কয়টি।

পুষ্টি উপাদান কিন্তু হারায় না। বিয়োজক মৃত গাছ ও প্রাণী ভেঙে নাইট্রোজেন, ফসফরাসের মতো উপাদান মাটি ও পানিতে ফিরিয়ে দেয়, আর উৎপাদক আবার তা নেয়।

বাংলাদেশের কয়েকটি বাস্তুতন্ত্র

বাংলাদেশে ছোট-বড় অনেক ধরনের বাস্তুতন্ত্র আছে, আর প্রতিটির জীবেরা সেখানকার পরিবেশে টিকে থাকতে অভিযোজিত

বাংলাদেশে ছোট-বড় অনেক ধরনের বাস্তুতন্ত্র আছে, আর প্রতিটির জীবেরা সেখানকার পরিবেশে টিকে থাকতে অভিযোজিত।

  • সুন্দরবন: জোয়ার-ভাটার লবণাক্ত পানির ম্যানগ্রোভ বন; শ্বাসমূল দিয়ে গাছ কাদায় বাতাস নেয়।
  • হাওর: বর্ষায় সাগরের মতো জলাভূমি, শুকনো মৌসুমে ধানখেত; পরিযায়ী পাখির আশ্রয়।
  • পুকুর ও বিল: ছোট কিন্তু সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র, পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে সহজ।
  • পাহাড়ি বন: চট্টগ্রাম ও সিলেটের মিশ্র চিরসবুজ বন।

নিজের এলাকার বাস্তুতন্ত্র খুঁজে দেখো

একটি পুকুরপাড়, স্কুলের মাঠের কোণ বা টবের গাছ বেছে নাও

একটি পুকুরপাড়, স্কুলের মাঠের কোণ বা টবের গাছ বেছে নাও। এক সপ্তাহ ধরে একই সময়ে দশ মিনিট দেখো।

  1. খাতায় তিনটি ঘর করো: উৎপাদক, খাদক, বিয়োজক।
  2. যা দেখলে সঠিক ঘরে লেখো বা আঁকো (পিঁপড়া, ঘাস, পচা পাতা, শামুক)।
  3. জড় উপাদানও লেখো: রোদ কতক্ষণ থাকে, মাটি ভেজা না শুকনো।
  4. একটা তীর-চিত্র আঁকো: কে কাকে খায়?

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

বাস্তুতন্ত্র কত প্রকার?

মূলত দুই প্রকার: স্থলজ (বন, মরুভূমি, তৃণভূমি) এবং জলজ (পুকুর, নদী, সাগর)। জলজকে আবার মিঠাপানি ও লোনাপানিতে ভাগ করা হয়।

বিয়োজক না থাকলে কী হতো?

মৃত গাছ ও প্রাণী জমে থাকত, আর মাটিতে পুষ্টি ফিরত না। কিছুদিন পর উৎপাদকেরা পুষ্টির অভাবে বাড়তে পারত না।

খাদ্যশৃঙ্খল আর বাস্তুতন্ত্র কি এক?

না। খাদ্যশৃঙ্খল হলো বাস্তুতন্ত্রের ভেতরে কে কাকে খায় তার একটি সারি। বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খলের সঙ্গে জড় উপাদানও আছে।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

আরও যাচাই করে পড়ো

নিচের সূত্রগুলো বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। জরুরি, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য স্থানীয় সরকারি নির্দেশও দেখো।

  • NASA Earth Observatory – পৃথিবী ও পরিবেশ – পৃথিবী, পানি, আবহাওয়া ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ নিয়ে NASA-র ব্যাখ্যা। দুর্যোগে স্থানীয় সরকারি নির্দেশ অনুসরণ করো।

এবার হাতে-কলমে

এই পড়া থেকে পরের ধাপে যাও

লেখায় ধারণাটা বুঝে নাও, তারপর পসরা ভুবনে বিষয়টি খুঁজে দেখো বা কাছের আরেকটি বিষয় শেখো।

← সব লেখা · ঋতু, নদী ও দুর্যোগ ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ