পসরা / লেখা / ঋতু, নদী ও দুর্যোগ
ঋতু, নদী ও দুর্যোগ
ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার আগে জরুরি ব্যাগে কী রাখবেন
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি নাটকীয়ভাবে কমেছে দুটো জিনিসের জন্য: সময়মতো সতর্কবার্তা আর আশ্রয়কেন্দ্র। কিন্তু সতর্কবার্তা পাওয়ার পর বেরোতে দেরি হলে সেই সুবিধাটুকু নষ্ট হয়ে যায়, আর দেরির সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো তখন গোছগাছ শুরু করা।
তাই ব্যাগটা আগে থেকে গোছানো থাকা দরকার। ওজন দশ কেজির বেশি হলে হাঁটা কঠিন হয়, বিশেষ করে বাচ্চা কোলে নিয়ে কাদা পেরোতে হলে।
যা ছাড়া চলবেই না
খাবার পানি: সবচেয়ে ভারী জিনিস, আর সবচেয়ে জরুরি। আশ্রয়কেন্দ্রে পানির উৎস নিরাপদ না-ও হতে পারে।
শুকনো খাবার: চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট। রান্না লাগে না, নষ্ট হয় না, আর হালকা।
জরুরি কাগজ: জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির দলিল, জন্মনিবন্ধন - প্লাস্টিকে মুড়ে। ঘর ভেসে গেলে এগুলোই সবচেয়ে কঠিন প্রতিস্থাপন।
আলো: টর্চ আর বাড়তি ব্যাটারি। মোমবাতি নয় - ভেজা হাত আর ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা আগুন নিজেই একটা বিপদ।
প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স: ব্যান্ডেজ, স্যাভলন, খাবার স্যালাইন, নিয়মিত ওষুধ।
খবর পাওয়ার উপায়: ব্যাটারিচালিত রেডিও, বা চার্জ দেওয়া পাওয়ার ব্যাংক। বিদ্যুৎ চলে গেলে সতর্কবার্তার পরের ধাপগুলো এখান থেকেই আসবে।
যা নেওয়া ভুল
টেলিভিশন বা ভারী যন্ত্র: বিদ্যুৎ থাকবে না, আর ওজনটাই পুরো ব্যাগ খেয়ে ফেলবে।
কাঁচা মাছ বা মাংস: ফ্রিজ ছাড়া কয়েক ঘণ্টায় নষ্ট, আর নষ্ট খাবার অসুখ ডেকে আনে।
পুরো খেলনার বাক্স: একটা ছোট খেলনা বাচ্চার মন ভালো রাখে, কিন্তু গোটা বাক্স পানির জায়গা কেড়ে নেয়।
মোমবাতি ও দেশলাই: উপরে বলা কারণেই।
ব্যাগ ছাড়াও যা আগে ঠিক করে রাখবেন
নিকটতম আশ্রয়কেন্দ্র কোথায় আর সেখানে পৌঁছাতে কত সময় লাগে - এটা ঝড়ের দিনে খোঁজার জিনিস নয়।
পরিবারের সবাই আলাদা হয়ে গেলে কোথায় মিলবে, সেটা আগেই ঠিক করা। বাচ্চাকে একটা পরিচিত ফোন নম্বর মুখস্থ করানো।
জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯, দেশের যেকোনো জায়গা থেকে বিনামূল্যে।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
জরুরি ব্যাগের ওজন কত হওয়া উচিত?
এমন যতটা আপনি অনেকক্ষণ হেঁটে বইতে পারবেন, সাধারণত দশ কেজির মধ্যে। বাচ্চা কোলে নিতে হলে আরও কম।
ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বড় বিপদ কোনটি?
উপকূলে বাতাস নয়, জলোচ্ছ্বাস - সাগরের পানি ফুলে উঠে ডাঙায় ঢুকে পড়া। এই কারণেই সময়মতো আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়াটাই সবচেয়ে কাজের পদক্ষেপ।