পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / ঋতু, নদী ও দুর্যোগ

ঋতু, নদী ও দুর্যোগ

বাংলার ছয় ঋতু ও বারো মাস: কোন মাসে কোন ঋতু

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

বাংলা পঞ্জিকায় বারো মাস, আর প্রতি দুই মাস মিলে এক ঋতু। ছয় ঋতুর এই ভাগটা বাংলার নিজের আবহাওয়া থেকে এসেছে, আর সেই কারণেই এটা চার ঋতুর হিসাবের চেয়ে এখানকার বাস্তবতার অনেক কাছাকাছি।

বাংলা বছর শুরু হয় পহেলা বৈশাখে, ইংরেজি ১৪ এপ্রিল। প্রতিটি বাংলা মাস মোটামুটি ইংরেজি মাসের মাঝামাঝি শুরু হয়ে পরের মাসের মাঝামাঝি শেষ হয়।

ছয় ঋতু, কোনটি কোন দুই মাস

গ্রীষ্ম: বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ। কাঠফাটা রোদ, বিকেলে হঠাৎ কালবৈশাখী। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু পাকে, তাই জ্যৈষ্ঠকে মধুমাস বলা হয়।

বর্ষা: আষাঢ় ও শ্রাবণ। টানা বৃষ্টি, নদী ভরে ওঠে, কদম ফোটে। দেশের বৃষ্টির বড় অংশই এই সময়ে হয়, আর ধানের চারা রোপণও তখনই।

শরৎ: ভাদ্র ও আশ্বিন। আকাশ ঝকঝকে নীল, সাদা মেঘের ভেলা, নদীর ধারে কাশফুল। দুর্গাপূজা এই ঋতুতে।

হেমন্ত: কার্তিক ও অগ্রহায়ণ। ভোরে কুয়াশা, ঘাসে শিশির, মাঠে পাকা আমন ধান। অগ্রহায়ণে নবান্ন, নতুন চালের পিঠা আর পায়েস।

শীত: পৌষ ও মাঘ। খেজুরের রস, পিঠাপুলি, কুয়াশায় ঢাকা সকাল। "মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে" প্রবাদটা এই মাসেরই।

বসন্ত: ফাল্গুন ও চৈত্র। পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া ফোটে, গাছে নতুন পাতা, কোকিল ডাকে। পহেলা ফাল্গুন আর একুশে ফেব্রুয়ারি দুটোই এই ঋতুতে।

বারো মাসের ইংরেজি হিসাব

বৈশাখ ১৪ এপ্রিল থেকে ১৪ মে, জ্যৈষ্ঠ ১৫ মে থেকে ১৪ জুন, আষাঢ় ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই, শ্রাবণ ১৬ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট।

ভাদ্র ১৬ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর, আশ্বিন ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর, কার্তিক ১৬ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর, অগ্রহায়ণ ১৫ নভেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর।

পৌষ ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৩ জানুয়ারি, মাঘ ১৪ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি, ফাল্গুন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ, চৈত্র ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল।

তারিখগুলো সংশোধিত বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, যা বাংলাদেশে সরকারিভাবে অনুসরণ করা হয়।

অগ্রহায়ণ একসময় বছরের প্রথম মাস ছিল

অগ্রহায়ণ নামের মানেই "বছরের অগ্রভাগ"। ফসল ঘরে উঠত এই মাসে, তাই একসময় বছর গোনা শুরু হতো এখান থেকেই।

নবান্ন উৎসব সেই স্মৃতিই বয়ে নিয়ে চলেছে: নতুন ধানের প্রথম চাল দিয়ে পিঠা আর পায়েস বানানো হয়। ঋতুর নামগুলো মুখস্থ করার চেয়ে এই গল্পগুলো মনে থাকে বেশি।

শিশুকে ঋতু শেখানোর সহজ উপায়

তালিকা মুখস্থ করানোর বদলে প্রশ্ন করা ভালো: এখন গাছে কী ফল আছে? আকাশ কেমন? সকালে কুয়াশা পড়ছে কি? উত্তরগুলোই ঋতু চিনিয়ে দেয়।

প্রতিটি ঋতুর একটা করে চিহ্ন বেছে নেওয়া যায় - গ্রীষ্মে আম, বর্ষায় কদম, শরতে কাশফুল, হেমন্তে শিশির, শীতে খেজুরের রস, বসন্তে পলাশ। ছয়টা ছবি মনে রাখা বারোটা নামের চেয়ে সহজ।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

বাংলা বছরের প্রথম মাস কোনটি?

বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ ইংরেজি ১৪ এপ্রিল পড়ে।

কোন ঋতুতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়?

বর্ষা, অর্থাৎ আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে। বাংলাদেশের বার্ষিক বৃষ্টির বড় অংশই এই সময়ে হয়।

কালবৈশাখী কোন ঋতুর ঝড়?

গ্রীষ্মের। নামটাই এসেছে বৈশাখ মাস থেকে। দিনের গরমে বাতাস দ্রুত উপরে উঠে বিশাল মেঘ বানায়, আর বিকেলে সেটা ভেঙে পড়ে।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

একই গুচ্ছের বাকি লেখা

← সব লেখা · ঋতু, নদী ও দুর্যোগ ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ