পসরা / লেখা / ঋতু, নদী ও দুর্যোগ
ঋতু, নদী ও দুর্যোগ
পানিচক্র কাকে বলে: চারটি ধাপ, আর বাংলাদেশের নদী
পৃথিবীতে পানির পরিমাণ বাড়ে না, কমেও না। একই পানি ঘুরতে থাকে সাগর, আকাশ, মাটি আর নদীর মধ্যে। এই ঘোরাটারই নাম পানিচক্র।
চারটি ধাপ
বাষ্পীভবন: রোদের তাপে সাগর, নদী, এমনকি ভেজা কাপড়ের পানিও বাষ্প হয়ে বাতাসে মেশে। গাছের পাতা থেকেও প্রচুর পানি এভাবে ওড়ে, তার আলাদা নাম প্রস্বেদন।
ঘনীভবন: উপরে উঠতে উঠতে বাতাস ঠান্ডা হয়, আর বাষ্প ছোট ছোট ফোঁটায় জমে। কোটি কোটি এমন ফোঁটা একসঙ্গে হলেই সেটা মেঘ। ঠান্ডা গ্লাসের গায়ে যে বিন্দু জমে, সেটাও একই ব্যাপার।
বৃষ্টিপাত: ফোঁটাগুলো জুড়ে ভারী হয়ে গেলে বাতাস আর ধরে রাখতে পারে না। খুব ঠান্ডা হলে শিলা বা বরফ হয়ে পড়ে।
ভূগর্ভস্থ পানি: বৃষ্টির কিছু অংশ মাটিতে চুইয়ে নিচে নেমে বালি আর পাথরের ফাঁকে জমা হয়। টিউবওয়েলের পানি এখান থেকেই আসে। বাকিটা গড়িয়ে নদী হয়ে সাগরে পৌঁছায়, আর চক্রটা আবার শুরু হয়।
বাংলাদেশ পুরোটাই এই চক্রের ফসল
ব্রহ্মপুত্র তিব্বতে জন্ম নিয়ে হিমালয় পেরিয়ে বাংলাদেশের উত্তরে ঢোকে, আর এখানে মূল ধারাটা যমুনা নামে দক্ষিণে বয়ে যায়।
গঙ্গা ভারত থেকে এসে বাংলাদেশে পদ্মা নাম নেয় আর পশ্চিম দিক থেকে এসে যমুনার সঙ্গে মেশে। চাঁদপুরের কাছে মিলিত ধারা মেঘনার সঙ্গে মিশে সাগরে পড়ে।
এই তিন নদী হিমালয় থেকে যে পলি বয়ে আনে, তা জমেই গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ তৈরি হয়েছে - পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপ, আর বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই তার উপর দাঁড়িয়ে।
চর, ভাঙন আর বন্যা
স্রোত ধীর হলে বয়ে আনা পলি নদীর মাঝেই জমে জেগে ওঠে, সেটাই চর। বাংলাদেশে লাখো মানুষ চরে বাস করেন।
নদীভাঙন হয় উল্টো কারণে: বাঁকের বাইরের পাড়ে স্রোত জোরে লাগে আর মাটি কেটে নিয়ে যায়। প্রতি বছর বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি এভাবে নদীতে চলে যায়।
বন্যা শুধু ক্ষতি নয়। পানির সঙ্গে নতুন পলি আসে, আর সেই পলিই মাটিকে উর্বর রাখে। সমস্যা হয় তখনই যখন বন্যা খুব বড় বা খুব দীর্ঘ হয়।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
পানিচক্রের ধাপ কয়টি?
সাধারণত চারটি ধরা হয়: বাষ্পীভবন, ঘনীভবন, বৃষ্টিপাত আর প্রবাহ। প্রবাহের মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানি আর নদী দুটোই পড়ে।
মেঘ কী দিয়ে তৈরি?
অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র পানির ফোঁটা বা বরফকণা দিয়ে। ধোঁয়া বা বাষ্প নয় - বাষ্প চোখে দেখা যায় না, মেঘ যায়।
কুয়াশা আর মেঘ কি এক জিনিস?
প্রায় এক। কুয়াশা হলো মাটি ছুঁয়ে থাকা মেঘ। রাতে বাতাস ঠান্ডা হলে জলীয় বাষ্প জমে ফোঁটা হয়, আর সেটাই কুয়াশা।