পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / পরীক্ষা, পদ্ধতি ও যন্ত্র

পরীক্ষা, পদ্ধতি ও যন্ত্র

ঘরে বসে বিজ্ঞান পরীক্ষা: ছয়টা, রান্নাঘরের জিনিসে

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

ভালো বিজ্ঞান পরীক্ষার দুটো শর্ত: ফলটা চোখে দেখা যায়, আর কারণটা ব্যাখ্যা করা যায়। শুধু চমক দেখানো জাদু, বিজ্ঞান নয়।

নিচের ছয়টাই রান্নাঘরের জিনিসে হয়, আর প্রতিটার আগে একটা কাজ আছে: কী হবে বলে অনুমান করা। অনুমানটা লিখে রাখলে পরীক্ষাটা সত্যিকারের পরীক্ষা হয়ে ওঠে।

ডিম ভাসানো: ঘনত্ব

লাগবে: এক গ্লাস পানি, একটা ডিম, লবণ।

সাধারণ পানিতে ডিম ডুবে যায়। এবার অনেকটা লবণ গুলে দিলে ডিমটা ভেসে উঠবে।

কারণ: লবণ গুলে পানির ঘনত্ব বেড়ে যায়। পানি ডিমের চেয়ে ভারী হয়ে গেলে ডিম আর ডুবে থাকতে পারে না।

একই কারণে সমুদ্রের নোনা পানিতে ভাসা সহজ, আর মরু সাগরে মানুষ শুয়ে ভেসে থাকতে পারে।

আগ্নেয়গিরি আর ঘনত্বের স্তর

বেকিং সোডার উপর ভিনেগার ঢাললে ফেনা উপচে পড়ে। কারণ বেকিং সোডা ক্ষার আর ভিনেগার অ্যাসিড, আর মিশলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়। ওই গ্যাসই বুদবুদ হয়ে ফেনা তোলে।

মজার ব্যাপার: এই একই গ্যাস আগুন নেভায়, তাই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রেও এটাই ব্যবহার হয়।

ঘনত্বের স্তর: এক গ্লাসে আগে মধু, তারপর পানি, তারপর তেল আস্তে আস্তে ঢাললে তিনটে আলাদা স্তর হয়ে থাকে। মধু সবচেয়ে ভারী তাই নিচে, তেল সবচেয়ে হালকা তাই উপরে।

ঝাঁকালে ঘোলা হবে, তারপর আবার আলাদা হয়ে যাবে - আর সেটাই প্রমাণ যে ব্যাপারটা ঘনত্বের, মেশার নয়।

রংধনু কাগজ আর বেলুন রকেট

রংধনু কাগজ: একটা কাগজের নিচের কোণে জলরঙের কালো দাগ দিয়ে কোণটা পানিতে ডুবিয়ে রাখো। পানি কাগজ বেয়ে উঠতে উঠতে রংগুলোকে বিভিন্ন দূরত্বে রেখে যাবে, আর দেখা যাবে কালোর ভেতরে নীল, লাল আর হলুদ লুকিয়ে ছিল।

এর নাম ক্রোমাটোগ্রাফি, আর গবেষণাগারে মিশ্রণ আলাদা করতে ঠিক এই পদ্ধতিই ব্যবহার হয়।

বেলুন রকেট: একটা বেলুন ফুলিয়ে না বেঁধে ছেড়ে দাও। বাতাস এক দিকে বেরোবে আর বেলুনটা ছুটবে উল্টো দিকে।

এটাই নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। রকেটও ঠিক এভাবেই চলে, গ্যাস পেছনে ছুড়ে সামনে এগোয়।

ছায়া ঘড়ি

রোদে একটা লাঠি খাড়া করে পুঁতে সারা দিন ধরে ছায়ার মাথায় দাগ দিয়ে যাও, আর পাশে সময়টা লিখে রাখো।

দাগগুলো একটা বাঁকা পথ বানাবে, আর ছায়া সবচেয়ে ছোট হবে দুপুরে - কারণ তখন সূর্য আকাশে সবচেয়ে উঁচুতে।

পরের দিন ঘড়ি ছাড়াই দাগ দেখে সময় বলা যাবে। হাজার বছর ধরে মানুষ ঠিক এভাবেই সময় মেপেছে।

এই পরীক্ষাটার সবচেয়ে ভালো দিক হলো এতে কয়েক ঘণ্টা লাগে। অপেক্ষা করা আর নিয়ম করে তথ্য লিখে রাখা - দুটোই বিজ্ঞানের আসল কাজ।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

ঘরে বিজ্ঞান পরীক্ষা করা কি নিরাপদ?

রান্নাঘরের সাধারণ জিনিস দিয়ে হ্যাঁ, তবে বড়দের সঙ্গে। পরিষ্কারের রাসায়নিক মেশানো বা আগুন নিয়ে পরীক্ষা নয়, আর কোনো কিছুরই স্বাদ নেওয়া নয়।

পরীক্ষার আগে অনুমান করা কেন জরুরি?

কারণ ফল দেখে ফেলার পর সবাই ভাবে "আমি তো জানতামই"। আগে লিখে রাখলে বোঝা যায় সত্যিই জানা ছিল কিনা, আর ভুল হলে সেখান থেকেই শেখা হয়।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

একই গুচ্ছের বাকি লেখা

← সব লেখা · পরীক্ষা, পদ্ধতি ও যন্ত্র ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ