পসরা / লেখা / পরীক্ষা, পদ্ধতি ও যন্ত্র
পরীক্ষা, পদ্ধতি ও যন্ত্র
পরিমাপের যন্ত্র: কোনটা কী মাপে, আর কীভাবে
মাপতে না পারলে বিজ্ঞান হয় না। "অনেক গরম" আর "৩৮ ডিগ্রি" এক জিনিস নয় - দ্বিতীয়টা অন্য কেউ যাচাই করতে পারে।
প্রতিটি যন্ত্রেরই একটা করে সাধারণ ভুল আছে, আর সেটা জানা থাকলে মাপটা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য হয়।
দৈর্ঘ্য ও আকার
স্কেল সবচেয়ে সহজ যন্ত্র, আর এখানে সবচেয়ে বড় ভুল হলো শূন্য দাগ থেকে শুরু না করা। অনেক স্কেলে প্রান্তের একটু ভেতরে শূন্য থাকে।
বাঁকা জিনিস স্কেলে মাপা যায় না, ফিতা লাগে। গাছের বেড় বা কোমরের মাপ তাই ফিতাতেই।
মাইক্রোস্কোপ খালি চোখে দেখা যায় না এমন জিনিস বড় করে দেখায়। কোষ আবিষ্কারই হয়েছিল এই যন্ত্র দিয়ে।
দূরবীন উল্টো কাজ করে: অনেক দূরের জিনিসকে কাছে আনে। গ্যালিলিও এটা আকাশের দিকে ঘুরিয়েই বৃহস্পতির চাঁদ খুঁজে পেয়েছিলেন।
ওজন আর সময়
দাঁড়িপাল্লা দুই পাল্লা তুলনা করে ওজন বলে। বাজারে ওজনে ঠকানো ধরার সবচেয়ে সহজ উপায় নিজের চোখে পাল্লা সমান কিনা দেখা।
ডিজিটাল নিক্তিতে ভুলটা অন্যরকম: পাত্র বসিয়ে শূন্যে আনা না হলে পাত্রের ওজনও যোগ হয়ে যায়।
ঘড়ি বলে কটা বাজে, স্টপওয়াচ বলে কত সময় লাগল। দুটো আলাদা প্রশ্ন, আর পরীক্ষায় দরকার হয় দ্বিতীয়টা।
আবহাওয়া আর দিক
থার্মোমিটার তাপমাত্রা মাপে। সেলসিয়াস স্কেলের দুটো বিন্দু ঠিক করা: পানি জমে ০ ডিগ্রিতে, ফোটে ১০০ ডিগ্রিতে, আর মাঝের অংশটা একশো ভাগে ভাগ করা।
ব্যারোমিটার বাতাসের চাপ মাপে। চাপ হঠাৎ পড়ে গেলে বোঝা যায় ঝড় আসছে, তাই এটা আবহাওয়ার আগাম খবর দেয়।
কম্পাসের কাঁটা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ধরে উত্তর-দক্ষিণে দাঁড়ায়, কারণ পৃথিবীটা নিজেই একটা বিরাট চুম্বক। লোহা বা চুম্বকের কাছে রাখলে কম্পাস ভুল দিক দেখায়।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
থার্মোমিটার কীভাবে কাজ করে?
ভেতরের তরল বা ধাতু তাপে প্রসারিত হয় আর ঠান্ডায় সংকুচিত হয়। সেই প্রসারণটাই স্কেলে সংখ্যা হয়ে দেখা যায়।
কম্পাস উত্তর দিক দেখায় কেন?
পৃথিবী নিজেই একটা বিরাট চুম্বক, আর কম্পাসের চুম্বকিত কাঁটা তার চৌম্বক ক্ষেত্র বরাবর দাঁড়ায়।
মাইক্রোস্কোপ আর দূরবীনের পার্থক্য কী?
মাইক্রোস্কোপ কাছের অতি ছোট জিনিস বড় করে দেখায়, দূরবীন অনেক দূরের বড় জিনিস কাছে আনে।