পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / গ্রহ, চাঁদ ও তারা

গ্রহ, চাঁদ ও তারা

উপগ্রহ, মহাকাশ স্টেশন ও রোভার: কোন যান কী কাজ করে?

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

উপগ্রহ, মহাকাশ স্টেশন ও রোভার: কোন যান কী কাজ করে? বিষয়ের রঙিন ধারণাচিত্র

মহাকাশে পাঠানো সব যান একই কাজ করে না। কেউ পৃথিবীর আবহাওয়া দেখে, কেউ যোগাযোগে সাহায্য করে, কেউ নভোচারীকে আশ্রয় দেয়, আর কেউ অন্য গ্রহের মাটিতে গড়িয়ে তথ্য সংগ্রহ করে।

🧠পড়তে পড়তে নিজেকে যাচাই করোস্যাটেলাইট আর উপগ্রহ কি একই?উত্তর দেখো
ভাবনার সূত্র

স্যাটেলাইট মানে উপগ্রহ; প্রাকৃতিক উপগ্রহ যেমন চাঁদ, আর কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ তৈরি করে পাঠায়।

পৃথিবীকে ঘিরে যে যান, আর অন্য জগতে যে যান

একটি উপগ্রহ কক্ষপথে থাকে কারণ তার সামনের দিকে চলার বেগ আর পৃথিবীর মহাকর্ষ একসঙ্গে পথ বাঁকায়

একটি উপগ্রহ কক্ষপথে থাকে কারণ তার সামনের দিকে চলার বেগ আর পৃথিবীর মহাকর্ষ একসঙ্গে পথ বাঁকায়। কিছু উপগ্রহ নিচু কক্ষপথে দ্রুত পৃথিবী ঘোরে; কিছু যোগাযোগ বা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য অন্য কক্ষপথে থাকে। কক্ষপথের ধরন কাজ অনুযায়ী বেছে নেওয়া হয়।

মিশনের ধরন ও কাজ
যানকোথায় চলেপ্রধান কাজ
যোগাযোগ উপগ্রহপৃথিবীর কক্ষপথেটিভি, ফোন বা ডেটা সংকেত আদান-প্রদান
আবহাওয়া উপগ্রহপৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেমেঘ, ঝড় ও আবহাওয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ
মহাকাশ স্টেশনপৃথিবীর কক্ষপথেদীর্ঘ সময়ের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও মানুষের বসবাস
রোভারচাঁদ/গ্রহ/উপগ্রহের পৃষ্ঠেমাটি, শিলা, আবহাওয়া ও ভূদৃশ্য পরীক্ষা

মিশন পরিকল্পনার চার ধাপ

রকেট, যান, যন্ত্র ও বিজ্ঞানী—সবাইকে একটি লক্ষ্য ঘিরে পরিকল্পনা করতে হয়

রকেট, যান, যন্ত্র ও বিজ্ঞানী—সবাইকে একটি লক্ষ্য ঘিরে পরিকল্পনা করতে হয়। দূরত্ব, শক্তি, যোগাযোগের বিলম্ব, তাপমাত্রা, ধুলো ও বিকিরণ নকশাকে প্রভাবিত করে।

  1. প্রশ্ন ঠিক করো: “মঙ্গলের মাটি কেমন?” বা “ঘূর্ণিঝড় কোথায় তৈরি হচ্ছে?”
  2. যন্ত্র বাছো: ক্যামেরা, তাপমাপক, রাডার বা মাটির নমুনা নেওয়ার যন্ত্র।
  3. যান ও পথ ঠিক করো: কক্ষপথে থাকবে, উড়ে যাবে, নাকি পৃষ্ঠে নামবে?
  4. তথ্য ফেরত আসার পথ আঁকো: অ্যান্টেনা, উপগ্রহ বা পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশন।

ভুল ধারণা: জিপিএসের জন্য শুধু একটি উপগ্রহ যথেষ্ট নয়

অবস্থান নির্ণয়ে একাধিক উপগ্রহের সংকেত ও সঠিক সময়ের হিসাব কাজে লাগে

অবস্থান নির্ণয়ে একাধিক উপগ্রহের সংকেত ও সঠিক সময়ের হিসাব কাজে লাগে। যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বা নেভিগেশনের জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা ও অনেক যন্ত্রের সমন্বয় থাকে। একটি উপগ্রহের ছবিতে গোটা ব্যবস্থা বোঝানো যায় না।

  • সব উপগ্রহ পৃথিবীর একই জায়গার ওপরে স্থির থাকে না।
  • সব মহাকাশযানে মানুষ থাকে না; অধিকাংশই রোবটিক।
  • রোভার উড়ে বেড়ায় না—চাকার সাহায্যে পৃষ্ঠে চলে।

নিজের মিশন বানাও

একটি কাগজে “সমস্যা—যান—যন্ত্র—তথ্য” চারটি ঘর করো

একটি কাগজে “সমস্যা—যান—যন্ত্র—তথ্য” চারটি ঘর করো। বাংলাদেশের উপকূলে ঝড় পর্যবেক্ষণ, চাঁদের গর্ত দেখা, বা মঙ্গলের শিলা পরীক্ষা—একটি বেছে নাও।

  1. মিশনটি কোথায় যাবে তা চিহ্নিত করো।
  2. সেখানে কী প্রশ্নের উত্তর চাইবে লেখো।
  3. প্রশ্নের জন্য উপযোগী দুইটি যন্ত্র বেছে নাও।
  4. যানটি তথ্য কীভাবে পৃথিবীতে পাঠাবে, তীরচিহ্ন দিয়ে দেখাও।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

স্যাটেলাইট আর উপগ্রহ কি একই?

স্যাটেলাইট মানে উপগ্রহ; প্রাকৃতিক উপগ্রহ যেমন চাঁদ, আর কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ তৈরি করে পাঠায়।

মহাকাশ স্টেশন কি পৃথিবীতে পড়ে যায় না?

এটি কক্ষপথে চলতে থাকে এবং মহাকর্ষে পৃথিবীর দিকে পড়লেও সামনের গতি থাকায় পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরে যায়; কক্ষপথ ঠিক রাখতে সময়ে সময়ে কক্ষপথ সংশোধন করা হয়।

রোভার কি দূর থেকে চালানো খেলনা গাড়ি?

না; এটি স্বয়ংক্রিয় ও দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রসহ বৈজ্ঞানিক যান। অনেক সময় পৃথিবী থেকে সংকেত যেতে-আসতে দেরি হয়, তাই রোভারকে নিজে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

আরও যাচাই করে পড়ো

নিচের সূত্রগুলো বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। জরুরি, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য স্থানীয় সরকারি নির্দেশও দেখো।

এবার হাতে-কলমে

এই পড়া থেকে পরের ধাপে যাও

লেখায় ধারণাটা বুঝে নাও, তারপর পসরা ভুবনে বিষয়টি খুঁজে দেখো বা কাছের আরেকটি বিষয় শেখো।

← সব লেখা · গ্রহ, চাঁদ ও তারা ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ