পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / গ্রহ, চাঁদ ও তারা

গ্রহ, চাঁদ ও তারা

সৌরজগতের গ্রহ কয়টি ও কী কী

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

সৌরজগতে গ্রহের সংখ্যা আটটি। সূর্যের কাছ থেকে দূরের দিকে ক্রমটা হলো: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস আর নেপচুন।

প্লুটোকে ১৯৩০ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত নবম গ্রহ ধরা হতো। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘ গ্রহের সংজ্ঞা ঠিক করে দেয়, আর সেই সংজ্ঞায় প্লুটো আর পড়ে না। সে এখন বামন গ্রহ।

ভেতরের চারটি: পাথুরে গ্রহ

বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছে আর সবচেয়ে ছোট গ্রহ। বায়ুমণ্ডল প্রায় নেই বললেই চলে, তাই রোদের দিকটা ভয়ানক গরম আর ছায়ার দিকটা ভয়ানক ঠান্ডা। একই গ্রহে এত বড় তফাত আর কোথাও নেই।

শুক্র আকারে পৃথিবীর প্রায় সমান, আর এই কারণেই একে পৃথিবীর যমজ বলা হয়। কিন্তু তার ঘন কার্বন ডাই-অক্সাইডের বায়ুমণ্ডল তাপ আটকে রাখে, তাই সূর্যের কাছের বুধের চেয়েও শুক্র বেশি গরম। গ্রিনহাউস প্রভাবের সবচেয়ে চরম উদাহরণ এটাই।

পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যেখানে তরল পানি পৃষ্ঠে টিকে থাকতে পারে, আর যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব জানা আছে।

মঙ্গল লালচে, কারণ তার মাটিতে লোহার মরিচা। এখানে সৌরজগতের সবচেয়ে উঁচু আগ্নেয়গিরি অলিম্পাস মন্স আছে। মঙ্গলে এখন একাধিক রোভার ঘুরে বেড়াচ্ছে।

বাইরের চারটি: গ্যাসের দৈত্য

বৃহস্পতি সবচেয়ে বড় গ্রহ, বাকি সব গ্রহ একসঙ্গে করলেও তার চেয়ে ছোট। তার গায়ের বড় লাল দাগটা একটা ঝড়, যা শত শত বছর ধরে চলছে।

শনি তার বলয়ের জন্য চেনা। বলয়গুলো একটানা চাকতি নয়, অসংখ্য বরফ আর পাথরের টুকরো - কোনোটা ধুলোর দানার সমান, কোনোটা বাড়ির সমান।

ইউরেনাস কাত হয়ে ঘোরে, প্রায় শুয়ে থাকা অবস্থায়। ফলে তার ঋতু অদ্ভুত: এক মেরু টানা বহু বছর সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে।

নেপচুন সবচেয়ে দূরের গ্রহ, আর সৌরজগতের সবচেয়ে দ্রুত বাতাস সেখানেই বয়।

দূরত্ব কেন কল্পনা করা কঠিন

সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় নেয় প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। মানে আকাশে যে সূর্য দেখছ, সেটা আট মিনিট আগের সূর্য।

সেই একই আলো নেপচুনে পৌঁছাতে লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। গ্রহগুলোর ছবিতে সবাইকে পাশাপাশি দেখানো হয় বলে দূরত্বটা ছোট মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে মাঝের ফাঁকটাই সৌরজগতের বেশিরভাগ।

এই কারণেই দূরত্ব কিলোমিটারে না লিখে জ্যোতির্বিদরা অন্য একক ব্যবহার করেন। সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বকে ধরা হয় এক জ্যোতির্বিজ্ঞান একক, আর সেই মাপে নেপচুন প্রায় ত্রিশ গুণ দূরে।

গ্রহ হওয়ার তিনটি শর্ত

২০০৬ সালের সংজ্ঞা অনুযায়ী গ্রহ হতে তিনটে শর্ত লাগে: সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে হবে, নিজের মাধ্যাকর্ষণে প্রায় গোল হতে হবে, আর নিজের কক্ষপথের আশপাশ পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

প্লুটো প্রথম দুটো শর্ত পূরণ করে, তৃতীয়টা নয় - তার কক্ষপথে তার মতো আরও অনেক বরফের বস্তু আছে। তাই সে বামন গ্রহ।

এটা প্লুটোর অবনমন নয়, বরং একটা নতুন শ্রেণি তৈরি হওয়া। বামন গ্রহের সংখ্যা এখন কয়েকটি, আর আরও পাওয়া যেতে পারে।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

সৌরজগতের গ্রহ কয়টি?

আটটি: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।

প্লুটো কেন গ্রহ নয়?

গ্রহ হতে হলে নিজের কক্ষপথের আশপাশ পরিষ্কার করতে হয়। প্লুটোর কক্ষপথে তার মতো আরও অনেক বরফের বস্তু আছে, তাই ২০০৬ সাল থেকে তাকে বামন গ্রহ ধরা হয়।

সবচেয়ে গরম গ্রহ কোনটি?

শুক্র, যদিও বুধ সূর্যের বেশি কাছে। শুক্রের ঘন বায়ুমণ্ডল তাপ আটকে রাখে।

সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে কত সময় লাগে?

প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

একই গুচ্ছের বাকি লেখা

← সব লেখা · গ্রহ, চাঁদ ও তারা ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ