পসরা / লেখা / গ্রহ, চাঁদ ও তারা
গ্রহ, চাঁদ ও তারা
চাঁদের কলা আর গ্রহণ: কেন প্রতি মাসে গ্রহণ হয় না
চাঁদ নিজে আলো দেয় না। সূর্যের আলো তার গায়ে পড়ে, আর আমরা সেই আলোকিত দিকের কতটা দেখতে পাচ্ছি - সেটাই কলা।
চাঁদ ছোট-বড় হয় না, কাটাও পড়ে না। শুধু কোণটা বদলায়।
এক চক্র, সাড়ে ২৯ দিন
অমাবস্যায় চাঁদ সূর্য আর পৃথিবীর মাঝে থাকে, তাই আলোকিত দিকটা আমাদের উল্টো দিকে। চাঁদ আকাশে থাকলেও দেখা যায় না।
তারপর ধীরে ধীরে এক পাশ আলোকিত হতে থাকে। সাত দিন পরে অর্ধেক দেখা যায়, একে বলে প্রথমার্ধ।
পূর্ণিমায় পৃথিবী থাকে সূর্য আর চাঁদের মাঝে, তাই পুরো আলোকিত দিকটা আমাদের দিকে।
তারপর আবার কমতে থাকে, শেষার্ধ পেরিয়ে আবার অমাবস্যা। পুরো চক্রটা প্রায় ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা।
গ্রহণ কেন প্রতি মাসে হয় না
সূর্যগ্রহণ হয় যখন চাঁদ সূর্য আর পৃথিবীর মাঝে এসে ছায়া ফেলে। সেটা কেবল অমাবস্যাতেই সম্ভব।
চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন পৃথিবী সূর্য আর চাঁদের মাঝে এসে চাঁদের উপর ছায়া ফেলে। সেটা কেবল পূর্ণিমাতেই সম্ভব।
তাহলে প্রতি অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হয় না কেন? কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে প্রায় পাঁচ ডিগ্রি হেলানো। বেশিরভাগ অমাবস্যায় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর একটু উপর বা নিচ দিয়ে চলে যায়।
বছরে কয়েকবারই তিনটে ঠিক এক সরলরেখায় পড়ে, আর তখনই গ্রহণ হয়।
সতর্কতা: খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখা বিপজ্জনক, চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
জোয়ার-ভাটা
চাঁদের টানে সাগরের পানি তার দিকে কিছুটা ফুলে ওঠে। পৃথিবীর উল্টো দিকেও একটা ফোলা তৈরি হয়, কারণ সেখানে টান সবচেয়ে কম।
পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘোরে বলে একটা জায়গা দিনে দুবার ফোলার নিচ দিয়ে যায়। তাই দিনে দুবার জোয়ার আর দুবার ভাটা।
সূর্যও টানে, তবে অনেক দূরে বলে তার প্রভাব কম। অমাবস্যা আর পূর্ণিমায় সূর্য ও চাঁদ এক লাইনে পড়ে, তখন জোয়ার সবচেয়ে বড় হয়।
সুন্দরবনের নদীগুলো, উপকূলের নৌকা চলাচল আর মাছ ধরা - সবই এই তালেই চলে।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
চাঁদের এক চক্র কত দিনের?
প্রায় ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা, অর্থাৎ সাড়ে ঊনত্রিশ দিন। বাংলা ও আরবি পঞ্জিকার মাস এই চক্র ধরেই গোনা হয়।
আমরা চাঁদের একই দিক দেখি কেন?
চাঁদ নিজের অক্ষে ঘুরতে যত সময় নেয়, পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতেও ঠিক তত সময় নেয়। তাই একই দিক সব সময় আমাদের দিকে থাকে।
সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা যায়?
না। বিশেষ ফিল্টার ছাড়া দেখলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। সাধারণ সানগ্লাস বা এক্স-রে ফিল্ম যথেষ্ট নয়।