পসরা / লেখা / গ্রহ, চাঁদ ও তারা
গ্রহ, চাঁদ ও তারা
আলোকবর্ষ কাকে বলে, আর তারারা কীভাবে মরে
আলোকবর্ষ শুনতে সময়ের একক মনে হয়, কিন্তু এটা দূরত্বের। আলো এক বছরে যতটা পথ যায়, সেটাই এক আলোকবর্ষ - প্রায় ৯ লক্ষ ৪৬ হাজার কোটি কিলোমিটার।
কিলোমিটারে লিখতে গেলে সংখ্যাটা এত বড় হয় যে তুলনা করাই অসম্ভব হয়ে যায়, তাই এই একক।
আকাশ দেখা মানে অতীত দেখা
আলোর গতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার, কিন্তু মহাকাশের দূরত্বের তুলনায় সেটাও ধীর।
সূর্যের আলো আমাদের কাছে পৌঁছাতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড লাগে। সবচেয়ে কাছের তারার আলো আসতে লাগে চার বছরের বেশি।
তাই যে তারাটা আজ রাতে দেখছ, সেটা আসলে চার বছর আগের ছবি। আর যদি সেটা এক হাজার আলোকবর্ষ দূরে হয়, তবে দেখছ এক হাজার বছর আগের অবস্থা। দূরবীন আসলে এক ধরনের সময়যন্ত্র।
তারার জীবন
তারার জন্ম হয় নীহারিকায় - গ্যাস আর ধুলোর বিশাল মেঘে। মাধ্যাকর্ষণে সেই মেঘ চুপসে যেতে থাকে, কেন্দ্রটা গরম হয়, আর একসময় হাইড্রোজেন জুড়ে হিলিয়াম হতে শুরু করে। সেই বিক্রিয়াই তারার আলো।
হাইড্রোজেন ফুরিয়ে এলে তারা ফুলে গিয়ে লাল দানব হয়। আমাদের সূর্যেরও একদিন এই দশা হবে।
সূর্যের মতো মাঝারি তারা শেষে বাইরের স্তর ছেড়ে দিয়ে একটা ছোট গরম কেন্দ্র রেখে যায় - শ্বেত বামন।
অনেক বড় তারা শেষ হয় বিস্ফোরণে, যার নাম সুপারনোভা। যা পড়ে থাকে তা হয় নিউট্রন তারা, নয়তো কৃষ্ণগহ্বর।
আমাদের শরীরের লোহা, ক্যালসিয়াম আর অক্সিজেন - সবই কোনো না কোনো তারার ভেতরে তৈরি হয়েছিল, আর সুপারনোভায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
তারামণ্ডল আসলে কী
কালপুরুষ বা সপ্তর্ষিমণ্ডলের তারাগুলো আকাশে পাশাপাশি দেখায়, কিন্তু বাস্তবে তারা একে অন্যের কাছাকাছি নাও থাকতে পারে। কোনোটা অনেক কাছে, কোনোটা বহু গুণ দূরে।
তারামণ্ডল তাই কোনো সত্যিকারের দল নয়, আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বানানো একটা নকশা। অন্য কোনো গ্রহ থেকে দেখলে এই নকশাগুলোর কোনোটাই মিলবে না।
তবু নকশাগুলো কাজে লাগে: ধ্রুবতারা খুঁজে উত্তর দিক ঠিক করা যায়, আর নাবিকেরা হাজার বছর ধরে ঠিক এভাবেই পথ চিনেছেন।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
এক আলোকবর্ষ কত কিলোমিটার?
প্রায় ৯ লক্ষ ৪৬ হাজার কোটি কিলোমিটার, অর্থাৎ প্রায় ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার।
আলোকবর্ষ কি সময়ের একক?
না, দূরত্বের। নামে "বর্ষ" থাকায় বিভ্রান্তি হয়, কিন্তু এটা মাপে পথ, সময় নয়।
সূর্য কি একদিন কৃষ্ণগহ্বর হবে?
না। কৃষ্ণগহ্বর হতে অনেক বেশি ভর লাগে। সূর্য লাল দানব হয়ে শেষে শ্বেত বামনে পরিণত হবে।