পসরা / লেখা / পদার্থ, পরমাণু ও বিক্রিয়া
পদার্থ, পরমাণু ও বিক্রিয়া
মিশ্রণ পৃথক করার পদ্ধতি: ছাঁকন, বাষ্পীভবন, পাতন ও ক্রোমাটোগ্রাফি
সরাসরি উত্তর
মিশ্রণ পৃথক করতে উপাদানগুলোর ধর্মের পার্থক্য কাজে লাগানো হয়। না-গলা কঠিন কণা (বালি-পানি) ছাঁকন দিয়ে, পানিতে গলে থাকা লবণ বাষ্পীভবন দিয়ে, আর দ্রবণের তরল অংশ ফেরত চাইলে পাতন দিয়ে আলাদা করা হয়। লোহার গুঁড়া চুম্বক দিয়ে এবং কালির ভিন্ন রং ক্রোমাটোগ্রাফি দিয়ে আলাদা হয়।
মিশ্রণে দুই বা ততোধিক পদার্থ একসঙ্গে থাকে, কিন্তু রাসায়নিকভাবে জোড়া লাগে না। তাই প্রতিটি উপাদান নিজের ধর্ম ধরে রাখে, আর সেই ধর্মের পার্থক্য কাজে লাগিয়েই তাদের আলাদা করা যায়।
মূল প্রশ্ন সবসময় একটাই: দুটো উপাদানের মধ্যে কোন পার্থক্যটা সবচেয়ে কাজে লাগবে? কণার আকার, গলে যাওয়া, ফুটনাঙ্ক, না চুম্বকে টান?
🧠পড়তে পড়তে নিজেকে যাচাই করোলবণ-পানি ছাঁকলে কি লবণ আলাদা হয়?উত্তর দেখো
না। গলে যাওয়া লবণ ছাঁকনির ছিদ্র দিয়ে পানির সঙ্গে বেরিয়ে যায়। লবণ পেতে বাষ্পীভবন বা পাতন লাগে।
কোন মিশ্রণে কোন পদ্ধতি
একই পদ্ধতি সব মিশ্রণে কাজ করে না। নিচের ছকে চেনা উদাহরণ আর কোন পার্থক্য কাজে লাগছে তা দেওয়া হলো।
| মিশ্রণ | পদ্ধতি | কোন পার্থক্য কাজে লাগে |
|---|---|---|
| বালি ও পানি | ছাঁকন | বালির কণা ছাঁকনির ছিদ্রে আটকায় |
| লবণ ও পানি (লবণ চাই) | বাষ্পীভবন | পানি বাষ্প হয়ে যায়, লবণ থেকে যায় |
| লবণ ও পানি (পানিও চাই) | পাতন | পানির বাষ্প ঠান্ডা করে আবার পানি করা হয় |
| লোহার গুঁড়া ও বালি | চুম্বক | লোহা চুম্বকে টানে, বালি টানে না |
| কালির রঙের মিশ্রণ | ক্রোমাটোগ্রাফি | রংগুলো কাগজ বেয়ে ভিন্ন গতিতে ওঠে |
| তেল ও পানি | পৃথকীকরণ ফানেল বা ঢেলে নেওয়া | তেল হালকা, পানির ওপরে ভাসে |
লবণ-পানি থেকে লবণ, আর চিনি-পানি থেকে চিনি
লবণ পানিতে গলে গেলে ছাঁকনিতে আটকায় না, কারণ লবণের কণা পানির অণুর মধ্যে ছড়িয়ে যায়। তাই পানিকে বাষ্প করে সরাতে হয়। সমুদ্রের পানি অগভীর জমিতে রোদে শুকিয়ে লবণ তৈরি এই নিয়মেই হয়।
চিনি-পানিতে সরাসরি জোরে জ্বাল দিলে চিনি পুড়ে বাদামি ক্যারামেল হয়ে যেতে পারে। তাই চিনি ফেরত চাইলে অল্প তাপে বা রোদে ধীরে পানি সরাতে হয়, যাতে চিনির স্ফটিক তৈরি হয়।
- এক কাপ পানিতে দুই চামচ লবণ গলাও।
- একটি চওড়া থালায় অল্প দ্রবণ ঢালো।
- থালাটি রোদে বা বাতাসে দুই থেকে তিন দিন রাখো।
- তলায় জমা সাদা দানা আতশ কাচে দেখো: এগুলো লবণের স্ফটিক।
পাতন: বাষ্প থেকে আবার পানি
পাতনে দ্রবণকে গরম করা হয়, তরলটি বাষ্প হয়ে নলে ওঠে, ঠান্ডা নলে গিয়ে আবার তরল হয়ে অন্য পাত্রে জমে। গলে থাকা লবণ পেছনের পাত্রে থেকে যায়। পরীক্ষাগারে পাতিত পানি এভাবেই তৈরি হয়।
ঘরে ঢাকনা দেওয়া হাঁড়িতে পানি ফুটলে ঢাকনার নিচে যে ফোঁটা জমে, সেটি পাতনের প্রথম ধাপের চেনা উদাহরণ। গরম বাষ্পে হাত পুড়ে যেতে পারে, তাই এটি বড়দের সঙ্গে দূর থেকে দেখবে।
কাগজে কালির রং আলাদা করা
কালো স্কেচ কলমের কালি অনেক সময় কয়েকটি রঙের মিশ্রণ। ব্লটিং বা টিস্যু কাগজের নিচের দিকে কালির একটা ফোঁটা দিয়ে কাগজের প্রান্ত পানিতে ডোবালে পানি ওপরে ওঠে, আর কালির রংগুলো আলাদা উচ্চতায় থেমে যায়। এর নাম কাগজ ক্রোমাটোগ্রাফি।
- পানিতে গলে এমন কালি (স্কেচ কলম) ব্যবহার করো; স্থায়ী মার্কার পানিতে সরে না।
- কালির দাগ পানির রেখার ওপরে রাখবে, ডুবিয়ে দেবে না।
- বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কালো কলম তুলনা করো: সব কালো কি একই রঙে ভাঙে?
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
লবণ-পানি ছাঁকলে কি লবণ আলাদা হয়?
না। গলে যাওয়া লবণ ছাঁকনির ছিদ্র দিয়ে পানির সঙ্গে বেরিয়ে যায়। লবণ পেতে বাষ্পীভবন বা পাতন লাগে।
বাষ্পীভবন আর পাতনের পার্থক্য কী?
বাষ্পীভবনে তরলটা বাতাসে চলে যায় আর কঠিনটা থাকে। পাতনে বাষ্পকে ঠান্ডা করে তরলটাও আবার সংগ্রহ করা হয়।
ক্রোমাটোগ্রাফি কোথায় কাজে লাগে?
খাবারের রং, ওষুধ বা পানির নমুনায় কোন কোন উপাদান আছে তা শনাক্ত করতে বিজ্ঞানীরা এর উন্নত রূপ ব্যবহার করেন।
এবার নিজে নেড়ে দেখো
আরও যাচাই করে পড়ো
নিচের সূত্রগুলো বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। জরুরি, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য স্থানীয় সরকারি নির্দেশও দেখো।
- American Chemical Society – স্কুলবয়সী রসায়ন – প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের রসায়ন পাঠ, পরীক্ষা ও নিরাপদ অনুসন্ধান।