পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / পদার্থ, পরমাণু ও বিক্রিয়া

পদার্থ, পরমাণু ও বিক্রিয়া

পরমাণুর গঠন: প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

সবকিছুই পরমাণু দিয়ে গড়া, আর পরমাণু গড়া তিন রকম কণা দিয়ে: প্রোটন, নিউট্রন আর ইলেকট্রন।

প্রোটন আর নিউট্রন থাকে কেন্দ্রে, যার নাম নিউক্লিয়াস। ইলেকট্রন ছোটে তার চারপাশে।

তিন কণা, তিন রকম

প্রোটনের চার্জ ধনাত্মক। কয়টা প্রোটন আছে, সেটাই ঠিক করে দেয় জিনিসটা কোন মৌল - এই সংখ্যাটার নাম পারমাণবিক সংখ্যা।

নিউট্রনের কোনো চার্জ নেই, কিন্তু ভর আছে। সে নিউক্লিয়াসকে একসঙ্গে ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ইলেকট্রনের চার্জ ঋণাত্মক, আর ভর প্রোটনের প্রায় ১৮০০ ভাগের এক ভাগ। রসায়নের প্রায় সব বিক্রিয়াই ইলেকট্রন নিয়ে, কারণ পরমাণুরা বাইরের ইলেকট্রন দিয়েই একে অন্যের সঙ্গে জোড়ে।

পারমাণবিক সংখ্যা আর ভরসংখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা = প্রোটনের সংখ্যা। হাইড্রোজেনের ১, হিলিয়ামের ২, কার্বনের ৬, অক্সিজেনের ৮।

ভরসংখ্যা = প্রোটন + নিউট্রন। ইলেকট্রন এত হালকা যে ভরের হিসাবে তাকে ধরা হয় না।

প্রোটনের সংখ্যা একটা বদলে গেলে জিনিসটা আর একই মৌল থাকে না। কার্বনে একটা প্রোটন যোগ করলে সেটা আর কার্বন নয়, নাইট্রোজেন।

আইসোটোপ আর আয়ন

একই মৌলের পরমাণুতে নিউট্রনের সংখ্যা আলাদা হতে পারে। তখন নাম একই থাকে, ভরসংখ্যা বদলায় - এদের বলে আইসোটোপ।

কার্বন-১২ আর কার্বন-১৪ দুটোই কার্বন, দুটোতেই ৬টা প্রোটন, কিন্তু নিউট্রন যথাক্রমে ৬ আর ৮। কার্বন-১৪ দিয়েই প্রাচীন জিনিসের বয়স মাপা হয়।

ইলেকট্রন কম বা বেশি হলে পরমাণুতে চার্জ আসে, তখন তাকে বলে আয়ন। ইলেকট্রন হারালে ধনাত্মক, পেলে ঋণাত্মক।

খাবার লবণ তৈরি হয় ঠিক এভাবেই: সোডিয়াম একটা ইলেকট্রন দিয়ে দেয়, ক্লোরিন সেটা নিয়ে নেয়, আর উল্টো চার্জ দুটো পরস্পরকে ধরে রাখে।

মৌল, যৌগ আর মিশ্রণ

মৌল একটাই ধরনের পরমাণু দিয়ে গড়া। সোনা, অক্সিজেন, লোহা - সবই মৌল। এখন পর্যন্ত চেনা মৌলের সংখ্যা ১১৮।

যৌগ হলো দুই বা তার বেশি মৌল রাসায়নিকভাবে জোড়া লেগে তৈরি নতুন পদার্থ, যার গুণ উপাদানগুলোর গুণের মতো নয়। সোডিয়াম পানিতে ফেললে জ্বলে, ক্লোরিন বিষাক্ত গ্যাস, কিন্তু দুটো মিলে হয় খাবার লবণ।

মিশ্রণে জিনিসগুলো পাশাপাশি থাকে কিন্তু জোড়া লাগে না, তাই আলাদা করা যায়। বালু আর লবণ মেশালে সেটা মিশ্রণ, কারণ পানি দিয়ে আলাদা করা যায়।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

পরমাণুর কেন্দ্রে কী থাকে?

প্রোটন আর নিউট্রন। এই কেন্দ্রের নাম নিউক্লিয়াস, আর পরমাণুর প্রায় পুরো ভরটাই এখানে।

পারমাণবিক সংখ্যা কী?

পরমাণুর প্রোটনের সংখ্যা। এটাই মৌলের পরিচয়পত্র, আর পর্যায় সারণি এই সংখ্যার ক্রমেই সাজানো।

আইসোটোপ কাকে বলে?

একই মৌলের এমন পরমাণু যাদের প্রোটন সমান কিন্তু নিউট্রন আলাদা। কার্বন-১২ আর কার্বন-১৪ এমনই।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

একই গুচ্ছের বাকি লেখা

← সব লেখা · পদার্থ, পরমাণু ও বিক্রিয়া ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ