পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / ঋতু, নদী ও দুর্যোগ

ঋতু, নদী ও দুর্যোগ

পাহাড়, সমভূমি, দ্বীপ ও বদ্বীপ: পৃথিবীর ভূমিরূপ কীভাবে তৈরি হয়?

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

পাহাড়, সমভূমি, দ্বীপ ও বদ্বীপ: পৃথিবীর ভূমিরূপ কীভাবে তৈরি হয়? বিষয়ের রঙিন ধারণাচিত্র

পৃথিবীর পৃষ্ঠ কোথাও উঁচু, কোথাও সমতল, কোথাও পানি দিয়ে ঘেরা। এই আকারগুলো সময়ের সঙ্গে ভূ-অভ্যন্তরের শক্তি, নদী, ঢেউ, বাতাস ও বরফে বদলায়।

🧠পড়তে পড়তে নিজেকে যাচাই করোবদ্বীপ কি সব সময় ত্রিভুজের মতো?উত্তর দেখো
ভাবনার সূত্র

অনেক বদ্বীপকে ত্রিভুজাকৃতি বলে আঁকা হয়, কিন্তু বাস্তব আকার নদী, ঢেউ, জোয়ার ও ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

ভূমিরূপের ধরন ও বৈশিষ্ট্য

পাহাড় আশপাশের ভূমির তুলনায় উঁচু; সমভূমি তুলনামূলক প্রশস্ত ও কম ঢালু

পাহাড় আশপাশের ভূমির তুলনায় উঁচু; সমভূমি তুলনামূলক প্রশস্ত ও কম ঢালু। উপত্যকা দুই উঁচু এলাকার মাঝের নিচু পথ, যা নদী বা হিমবাহের ক্ষয়ে তৈরি হতে পারে। দ্বীপ চারদিক পানি-ঘেরা ভূমি। বদ্বীপ নদীর মোহনায় পলি জমে তৈরি হওয়া ভূমি; নদী শাখায় ভাগ হয়ে সেখানে ছড়াতে পারে।

মানচিত্রে ভূমিরূপ আলাদা করো
ভূমিরূপচেনার লক্ষণগঠনে সাধারণ ভূমিকা
পাহাড়আশপাশের চেয়ে বেশি উঁচুভূত্বকের উত্তোলন/ভাঁজ, আগ্নেয় ক্রিয়া বা ক্ষয়
সমভূমিবিস্তৃত, তুলনামূলক সমতলপলি জমা বা দীর্ঘ ক্ষয়ের ফল
দ্বীপচারদিক পানি দিয়ে ঘেরাপলি, আগ্নেয় গঠন, প্রবাল বা ভূমির বিচ্ছিন্নতা
বদ্বীপনদীমুখে শাখা ও পলিনদীর সঞ্চিত পলি ও পানিপ্রবাহ

ক্ষয় আর সঞ্চয়ের কাজ

নদীর পানি পাথর ও মাটি ভাঙতে পারে; ভাঙা কণা স্রোতে বহন হয়ে ধীর পানিতে জমে

নদীর পানি পাথর ও মাটি ভাঙতে পারে; ভাঙা কণা স্রোতে বহন হয়ে ধীর পানিতে জমে। এভাবে একই নদী এক জায়গায় ভাঙন, অন্য জায়গায় পলি সঞ্চয় করতে পারে। উপকূলে ঢেউ, বাতাসে বালিয়াড়ি, আর প্লেটের নড়াচড়ায় পাহাড় বা ভূমিকম্পের ভূমি তৈরি হয়। এগুলো দীর্ঘ সময়ের প্রক্রিয়া, যদিও বন্যা বা ভূমিকম্পে দ্রুত পরিবর্তনও হতে পারে।

  • ক্ষয় = মাটি/শিলা ভাঙা ও সরানো।
  • পরিবহন = ভাঙা কণা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া।
  • সঞ্চয় = কণা জমা হওয়া।
  • বাস্তব ভূদৃশ্যে একাধিক প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলে।

বাংলাদেশের নদী ও বদ্বীপের উদাহরণ

বাংলাদেশের নদীবাহিত পলি ও বঙ্গোপসাগরের উপকূল দেশের ভূমি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের নদীবাহিত পলি ও বঙ্গোপসাগরের উপকূল দেশের ভূমি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। বদ্বীপ স্থির ছাঁচ নয়—নদীপথ, পলি, জোয়ার, বন্যা ও মানুষের অবকাঠামোতে ভূদৃশ্য বদলায়। কোনো মানচিত্রের সীমানাকে প্রকৃতির অপরিবর্তনীয় রেখা ধরে নিও না।

  • নদীর উজান থেকে মোহনা পর্যন্ত একটি সরল রেখাচিত্র আঁকো।
  • কোথায় স্রোত দ্রুত, কোথায় ধীর—অনুমান লিখো।
  • মানচিত্রে নদীর শাখা ও জলাভূমি চিহ্নিত করো; উৎস ও তারিখ নোট করো।

নিজের এলাকার ভূমিরূপ মানচিত্র

গুগল ম্যাপ বা কাগজের মানচিত্রে হাঁটা-চলার পরিচিত এলাকা দেখো; বিপজ্জনক জায়গায় মাঠে যাওয়ার দরকার নেই

গুগল ম্যাপ বা কাগজের মানচিত্রে হাঁটা-চলার পরিচিত এলাকা দেখো; বিপজ্জনক জায়গায় মাঠে যাওয়ার দরকার নেই।

  1. স্কুল/বাড়ি, রাস্তা, জলাশয় ও নিচু স্থান চিহ্নিত করো।
  2. উঁচু-নিচু নিয়ে নিজের অনুমান লিখো—মানচিত্রের রঙ বা কনট্যুর দেখে যাচাই করো।
  3. বৃষ্টি হলে পানি কোন পথে যায়, কাগজে তীর দিয়ে আঁকো।
  4. ভূমিকম্প, বন্যা বা খাড়া ঢাল দেখতে গিয়ে ঝুঁকি নিও না; বড়দের সঙ্গে থাকো।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

বদ্বীপ কি সব সময় ত্রিভুজের মতো?

অনেক বদ্বীপকে ত্রিভুজাকৃতি বলে আঁকা হয়, কিন্তু বাস্তব আকার নদী, ঢেউ, জোয়ার ও ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

পাহাড় শুধু আগ্নেয়গিরি থেকে তৈরি হয়?

না। ভূত্বকের প্লেট সংঘর্ষ, ভাঁজ, উত্তোলন, আগ্নেয় ক্রিয়া ও ক্ষয়—বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পাহাড় গড়ে উঠতে পারে।

নদী কি শুধু ভূমি ক্ষয় করে?

না। নদী পলি ভাঙে, বহন করে এবং অন্য স্থানে জমা দেয়—ক্ষয় ও সঞ্চয় দুই কাজই করে।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

আরও যাচাই করে পড়ো

নিচের সূত্রগুলো বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। জরুরি, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য স্থানীয় সরকারি নির্দেশও দেখো।

  • NASA Earth Observatory — পৃথিবী ও পরিবেশ — পৃথিবী, পানি, আবহাওয়া ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ নিয়ে NASA-র ব্যাখ্যা। দুর্যোগে স্থানীয় সরকারি নির্দেশ অনুসরণ করো।

এবার হাতে-কলমে

এই পড়া থেকে পরের ধাপে যাও

লেখায় ধারণাটা বুঝে নাও, তারপর পসরা ভুবনে বিষয়টি খুঁজে দেখো বা কাছের আরেকটি বিষয় শেখো।

← সব লেখা · ঋতু, নদী ও দুর্যোগ ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ