পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / টাকা, বাজেট ও সুদ

টাকা, বাজেট ও সুদ

টাকা কোথা থেকে এলো? বিনিময় প্রথা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নোট

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

টাকা কোথা থেকে এলো? বিনিময় প্রথা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নোট বিষয়ের রঙিন ধারণাচিত্র

একটি একশো টাকার নোট আসলে একটুকরো বিশেষ কাগজ। তবু দোকানি সেটা নিয়ে তোমাকে চাল বা বই দেন। কাগজটার মূল্য আসে কোথা থেকে? সেই উত্তর খুঁজতে টাকার ইতিহাসে একটু পেছনে যেতে হবে।

🧠পড়তে পড়তে নিজেকে যাচাই করোবাংলাদেশে টাকা কবে চালু হয়?উত্তর দেখো
ভাবনার সূত্র

১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা টাকা চালু হয়।

বিনিময় প্রথা: যখন টাকা ছিল না

ধরো তোমার কাছে ধান আছে, তোমার দরকার মাছ

ধরো তোমার কাছে ধান আছে, তোমার দরকার মাছ। তোমাকে এমন একজন জেলে খুঁজতে হবে যার ঠিক তখন ধান দরকার। আবার এক বস্তা ধানে কয়টা মাছ, সেটাও ঠিক করতে হবে। এই ঝামেলাগুলোর জন্যই মানুষ একটা সাধারণ মাধ্যম খুঁজেছিল, যেটা সবাই নেবে।

কড়ি থেকে কাগজের নোট

বাংলাসহ পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে একসময় সমুদ্রের কড়ি টাকার মতো ব্যবহৃত হতো, কারণ কড়ি টেকসই, গোনা সহজ আর নকল করা কঠিন

বাংলাসহ পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে একসময় সমুদ্রের কড়ি টাকার মতো ব্যবহৃত হতো, কারণ কড়ি টেকসই, গোনা সহজ আর নকল করা কঠিন। পরে রাজা ও শাসকেরা সোনা, রুপা ও তামার মুদ্রা চালু করেন। অনেক মুদ্রা বয়ে বেড়ানো কষ্ট বলে ধীরে ধীরে কাগজের নোট এল।

টাকার বিবর্তন
ধাপকী ব্যবহার হতোসুবিধাঅসুবিধা
বিনিময় প্রথাজিনিসের বদলে জিনিসটাকা লাগে নাদুজনের চাহিদা মেলানো কঠিন
কড়িসমুদ্রের ঝিনুক-শামুকের খোলটেকসই, গোনা সহজবড় লেনদেনে অনেক লাগে
ধাতুর মুদ্রাসোনা, রুপা, তামানিজেরই দাম আছেভারী
কাগজের নোটসরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোটহালকা, বহনে সহজজাল হওয়ার ঝুঁকি
ডিজিটাল টাকাব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিংদূরে পাঠানো সহজপিন ও প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা

বাংলাদেশের টাকা: কে ইস্যু করে, কে ছাপে

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের নিজস্ব টাকা চালু হয়

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের নিজস্ব টাকা চালু হয়। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ টাকা ও তার বেশি মূল্যের নোট ইস্যু করে; সেগুলোতে গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে। ১, ২ ও ৫ টাকার নোট ও কয়েন সরকারের পক্ষে ইস্যু হয়, তাতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে।

নোট ছাপা হয় গাজীপুরে অবস্থিত দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডে, যেখানে জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা ও বিশেষ কালির মতো জাল-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়।

  • ১ টাকা = ১০০ পয়সা।
  • নোটে জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা আর উঁচু ছাপ হাত দিয়ে অনুভব করা যায়।
  • ইচ্ছেমতো নোট ছাপলে জিনিসের দাম বেড়ে যায়, তাই কতটা টাকা বাজারে থাকবে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাব করে ঠিক করে।

কাগজের নোট কেন মূল্যবান

নোটের কাগজ নিজে দামি নয়

নোটের কাগজ নিজে দামি নয়। দেশের আইন একে বৈধ মুদ্রা বলে, সরকার কর নেয় এই টাকায়, আর সবাই বিশ্বাস করে যে অন্যরাও এটা নেবে। এই আস্থাই টাকার মূল্য। তাই নোট যত্নে রাখা, না ছেঁড়া আর না লেখা আমাদের সবার দায়িত্ব।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

বাংলাদেশে টাকা কবে চালু হয়?

১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা টাকা চালু হয়।

টাকার নোট কোথায় ছাপা হয়?

গাজীপুরের দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান।

সরকার আরও টাকা ছেপে সবাইকে দিলে কী হবে?

জিনিস একই থাকলে বেশি টাকা একই জিনিসের পেছনে ছুটবে, তাই দাম বাড়বে। একে মূল্যস্ফীতি বলে।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

আরও যাচাই করে পড়ো

নিচের সূত্রগুলো বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। জরুরি, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য স্থানীয় সরকারি নির্দেশও দেখো।

এবার হাতে-কলমে

এই পড়া থেকে পরের ধাপে যাও

লেখায় ধারণাটা বুঝে নাও, তারপর পসরা ভুবনে বিষয়টি খুঁজে দেখো বা কাছের আরেকটি বিষয় শেখো।

← সব লেখা · টাকা, বাজেট ও সুদ ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ