পসরা / লেখা / টাকা, বাজেট ও সুদ
টাকা, বাজেট ও সুদ
টাকা কোথা থেকে এলো? বিনিময় প্রথা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নোট
সরাসরি উত্তর
টাকার আগে মানুষ বিনিময় প্রথায় এক জিনিসের বদলে আরেক জিনিস দিত। পরে কড়ি, তারপর সোনা-রুপা-তামার মুদ্রা, আর শেষে কাগজের নোট চালু হয়। বাংলাদেশে টাকা চালু হয় ১৯৭২ সালে। এখন দেশের নোট ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক (তবে ১, ২ ও ৫ টাকার নোট ও কয়েন সরকারের), আর ছাপা হয় গাজীপুরের সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে। মানুষ ও সরকার একে লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে মানে বলেই টাকা মূল্যবান।
একটি একশো টাকার নোট আসলে একটুকরো বিশেষ কাগজ। তবু দোকানি সেটা নিয়ে তোমাকে চাল বা বই দেন। কাগজটার মূল্য আসে কোথা থেকে? সেই উত্তর খুঁজতে টাকার ইতিহাসে একটু পেছনে যেতে হবে।
🧠পড়তে পড়তে নিজেকে যাচাই করোবাংলাদেশে টাকা কবে চালু হয়?উত্তর দেখো
১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা টাকা চালু হয়।
বিনিময় প্রথা: যখন টাকা ছিল না
ধরো তোমার কাছে ধান আছে, তোমার দরকার মাছ। তোমাকে এমন একজন জেলে খুঁজতে হবে যার ঠিক তখন ধান দরকার। আবার এক বস্তা ধানে কয়টা মাছ, সেটাও ঠিক করতে হবে। এই ঝামেলাগুলোর জন্যই মানুষ একটা সাধারণ মাধ্যম খুঁজেছিল, যেটা সবাই নেবে।
কড়ি থেকে কাগজের নোট
বাংলাসহ পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে একসময় সমুদ্রের কড়ি টাকার মতো ব্যবহৃত হতো, কারণ কড়ি টেকসই, গোনা সহজ আর নকল করা কঠিন। পরে রাজা ও শাসকেরা সোনা, রুপা ও তামার মুদ্রা চালু করেন। অনেক মুদ্রা বয়ে বেড়ানো কষ্ট বলে ধীরে ধীরে কাগজের নোট এল।
| ধাপ | কী ব্যবহার হতো | সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|---|---|
| বিনিময় প্রথা | জিনিসের বদলে জিনিস | টাকা লাগে না | দুজনের চাহিদা মেলানো কঠিন |
| কড়ি | সমুদ্রের ঝিনুক-শামুকের খোল | টেকসই, গোনা সহজ | বড় লেনদেনে অনেক লাগে |
| ধাতুর মুদ্রা | সোনা, রুপা, তামা | নিজেরই দাম আছে | ভারী |
| কাগজের নোট | সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোট | হালকা, বহনে সহজ | জাল হওয়ার ঝুঁকি |
| ডিজিটাল টাকা | ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং | দূরে পাঠানো সহজ | পিন ও প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা |
বাংলাদেশের টাকা: কে ইস্যু করে, কে ছাপে
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের নিজস্ব টাকা চালু হয়। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ টাকা ও তার বেশি মূল্যের নোট ইস্যু করে; সেগুলোতে গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে। ১, ২ ও ৫ টাকার নোট ও কয়েন সরকারের পক্ষে ইস্যু হয়, তাতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে।
নোট ছাপা হয় গাজীপুরে অবস্থিত দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডে, যেখানে জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা ও বিশেষ কালির মতো জাল-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়।
- ১ টাকা = ১০০ পয়সা।
- নোটে জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা আর উঁচু ছাপ হাত দিয়ে অনুভব করা যায়।
- ইচ্ছেমতো নোট ছাপলে জিনিসের দাম বেড়ে যায়, তাই কতটা টাকা বাজারে থাকবে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাব করে ঠিক করে।
কাগজের নোট কেন মূল্যবান
নোটের কাগজ নিজে দামি নয়। দেশের আইন একে বৈধ মুদ্রা বলে, সরকার কর নেয় এই টাকায়, আর সবাই বিশ্বাস করে যে অন্যরাও এটা নেবে। এই আস্থাই টাকার মূল্য। তাই নোট যত্নে রাখা, না ছেঁড়া আর না লেখা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
বাংলাদেশে টাকা কবে চালু হয়?
১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা টাকা চালু হয়।
টাকার নোট কোথায় ছাপা হয়?
গাজীপুরের দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান।
সরকার আরও টাকা ছেপে সবাইকে দিলে কী হবে?
জিনিস একই থাকলে বেশি টাকা একই জিনিসের পেছনে ছুটবে, তাই দাম বাড়বে। একে মূল্যস্ফীতি বলে।
এবার নিজে নেড়ে দেখো
আরও যাচাই করে পড়ো
নিচের সূত্রগুলো বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। জরুরি, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য স্থানীয় সরকারি নির্দেশও দেখো।
- বাংলাদেশ ব্যাংক – আর্থিক শিক্ষা ও নির্দেশনা – বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক শিক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য; বাস্তব সিদ্ধান্তে অভিভাবকের সহায়তা নাও।