পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / বল, যন্ত্র ও শক্তি

বল, যন্ত্র ও শক্তি

মাধ্যাকর্ষণ কী? জিনিস নিচে পড়ে কেন, আর চাঁদে ওজন কেন কম

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

মাধ্যাকর্ষণ কী? জিনিস নিচে পড়ে কেন, আর চাঁদে ওজন কেন কম বিষয়ের রঙিন ধারণাচিত্র

হাত থেকে কলম ছেড়ে দিলে সেটা কখনো ওপরে ওঠে না, সবসময় মাটির দিকে নামে। এই পরিচিত ঘটনার পেছনে আছে এমন এক বল, যা আমাদের মাটিতে, চাঁদকে পৃথিবীর চারপাশে, আর পৃথিবীকে সূর্যের চারপাশে ধরে রাখে।

🧠পড়তে পড়তে নিজেকে যাচাই করোমাধ্যাকর্ষণ কে আবিষ্কার করেন?উত্তর দেখো
ভাবনার সূত্র

জিনিস পড়ার ঘটনা মানুষ সবসময় দেখেছে। আইজ্যাক নিউটন ১৬৮৭ সালে প্রকাশিত বইয়ে মহাকর্ষের সূত্র দিয়ে দেখান, যে বল আপেল ফেলে সেই বলই চাঁদকে কক্ষপথে রাখে।

মহাকর্ষ আর মাধ্যাকর্ষণ: একই বল, দুই নাম

নিউটন দেখিয়েছিলেন, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু অন্য প্রতিটি বস্তুকে টানে

নিউটন দেখিয়েছিলেন, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু অন্য প্রতিটি বস্তুকে টানে। টান বাড়ে ভর বেশি হলে, আর কমে দূরত্ব বাড়লে। দুটি সাধারণ বস্তুর মধ্যে এই টান এত ছোট যে আমরা টের পাই না, কিন্তু পৃথিবীর বিশাল ভরের টান স্পষ্ট টের পাই।

এই সার্বজনীন টানকে বলে মহাকর্ষ। তারই একটি বিশেষ রূপ, পৃথিবী ও তার কাছের বস্তুর মধ্যের টান, হলো মাধ্যাকর্ষণ।

পার্থক্য এক নজরে
বিষয়মহাকর্ষমাধ্যাকর্ষণ
কাদের মধ্যেযেকোনো দুটি বস্তুপৃথিবী ও অন্য বস্তু
উদাহরণসূর্য-পৃথিবী, পৃথিবী-চাঁদগাছ থেকে আম পড়া
দিকদুই বস্তু পরস্পরের দিকেপৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে

ভারী আর হালকা জিনিস কি একসঙ্গে পড়ে?

বাতাস না থাকলে হ্যাঁ

বাতাস না থাকলে হ্যাঁ। গ্যালিলিও যুক্তি ও পরীক্ষায় দেখিয়েছিলেন, বাতাসের বাধা বাদ দিলে সব বস্তু একই হারে পড়ে। ১৯৭১ সালে অ্যাপোলো ১৫ মিশনে নভোচারী ডেভিড স্কট চাঁদে একটি হাতুড়ি আর একটি পালক একসঙ্গে ছেড়েছিলেন; বাতাস নেই বলে দুটো একসঙ্গে মাটিতে পড়ে।

পৃথিবীতে পালক ধীরে পড়ে কারণ তার আকারের তুলনায় ভর কম, তাই বাতাসের বাধা বেশি কাজ করে। ভাঁজ করা কাগজ আর খোলা কাগজ ফেলে দেখলে এটা বোঝা যায়।

  1. দুটি একই রকম কাগজ নাও।
  2. একটিকে শক্ত করে গোল বল বানাও, অন্যটি খোলা রাখো।
  3. একই উচ্চতা থেকে একসঙ্গে ছাড়ো।
  4. কোনটি আগে পড়ল? দুটির ভর তো একই, তাহলে পার্থক্য কেন হলো, লেখো।

ভর আর ওজন: চাঁদে ওজন কেন কম

ভর হলো বস্তুতে কতটা পদার্থ আছে, এটি কোথাও গেলে বদলায় না

ভর হলো বস্তুতে কতটা পদার্থ আছে, এটি কোথাও গেলে বদলায় না। ওজন হলো সেই ভরের ওপর মাধ্যাকর্ষণের টান। চাঁদের ভর পৃথিবীর চেয়ে অনেক কম, তাই চাঁদের পৃষ্ঠে টান পৃথিবীর প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ।

৩০ কেজি ভরের একটি শিশু চাঁদে গেলেও তার ভর ৩০ কেজিই থাকবে, কিন্তু চাঁদের মাটিতে তাকে টানার বল পৃথিবীর প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ হবে। তাই সেখানে লাফ অনেক উঁচু হয়।

মাধ্যাকর্ষণ না থাকলে কী হতো

মাধ্যাকর্ষণ আছে বলেই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে ঘিরে থাকে, নদীর পানি উঁচু থেকে নিচে বয়ে সাগরে যায়, আর বৃষ্টির ফোঁটা মাটিতে…

মাধ্যাকর্ষণ আছে বলেই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে ঘিরে থাকে, নদীর পানি উঁচু থেকে নিচে বয়ে সাগরে যায়, আর বৃষ্টির ফোঁটা মাটিতে নামে।

  • জোয়ার-ভাটা হয় মূলত চাঁদের, আর কিছুটা সূর্যের মহাকর্ষের টানে।
  • মহাকাশ স্টেশনের নভোচারীরা ভাসেন মাধ্যাকর্ষণ নেই বলে নয়; তাঁরা স্টেশনের সঙ্গে অবিরাম পৃথিবীর দিকে পড়ছেন, আর সামনে এত দ্রুত চলছেন যে পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরতে থাকেন।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

মাধ্যাকর্ষণ কে আবিষ্কার করেন?

জিনিস পড়ার ঘটনা মানুষ সবসময় দেখেছে। আইজ্যাক নিউটন ১৬৮৭ সালে প্রকাশিত বইয়ে মহাকর্ষের সূত্র দিয়ে দেখান, যে বল আপেল ফেলে সেই বলই চাঁদকে কক্ষপথে রাখে।

পৃথিবীতে g-এর মান কত?

পৃথিবীর পৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ g প্রায় ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড²। মেরু ও বিষুবরেখায় সামান্য পার্থক্য থাকে।

মহাকাশে কি মাধ্যাকর্ষণ শূন্য?

না। পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে মাধ্যাকর্ষণ পৃষ্ঠের প্রায় ৯০ শতাংশ। ভাসমান মনে হয় কারণ যান ও নভোচারী একসঙ্গে মুক্তভাবে পড়ছে।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

আরও যাচাই করে পড়ো

নিচের সূত্রগুলো বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। জরুরি, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য স্থানীয় সরকারি নির্দেশও দেখো।

এবার হাতে-কলমে

এই পড়া থেকে পরের ধাপে যাও

লেখায় ধারণাটা বুঝে নাও, তারপর পসরা ভুবনে বিষয়টি খুঁজে দেখো বা কাছের আরেকটি বিষয় শেখো।

← সব লেখা · বল, যন্ত্র ও শক্তি ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ