পসরা / লেখা / ভগ্নাংশ, ক্ষেত্রফল ও একক
ভগ্নাংশ, ক্ষেত্রফল ও একক
ক্ষেত্রফল ও পরিসীমা: সূত্র আর পার্থক্য
পরিসীমা আর ক্ষেত্রফল গুলিয়ে ফেলা গণিতের সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর একটা, আর কারণটা সহজ: দুটোই একই আকৃতি নিয়ে, আর দুটোতেই একই সংখ্যাগুলো ব্যবহার হয়।
পার্থক্যটা মনে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়: পরিসীমা হলো বেড়া, ক্ষেত্রফল হলো ঘাস। বেড়া মাপা হয় লম্বায়, ঘাস মাপা হয় জায়গায়।
একক দেখলেই ধরা পড়ে
পরিসীমার একক দৈর্ঘ্যের একক: মিটার, সেন্টিমিটার, ফুট।
ক্ষেত্রফলের একক বর্গ একক: বর্গমিটার, বর্গসেন্টিমিটার। কারণ ক্ষেত্রফল মাপে কতগুলো একক বর্গ ভেতরে ধরে।
উত্তরে একক লেখার সময় "বর্গ" আছে কিনা দেখলেই বোঝা যায় কোনটা বের করা হয়েছে, আর এটাই সবচেয়ে দ্রুত যাচাই।
সূত্রগুলো
আয়তক্ষেত্র: পরিসীমা = ২ × (দৈর্ঘ্য + প্রস্থ), ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ।
বর্গক্ষেত্র: পরিসীমা = ৪ × বাহু, ক্ষেত্রফল = বাহু × বাহু।
ত্রিভুজ: পরিসীমা = তিন বাহুর যোগফল, ক্ষেত্রফল = ½ × ভূমি × উচ্চতা।
বৃত্ত: পরিধি = ২ × π × ব্যাসার্ধ, ক্ষেত্রফল = π × ব্যাসার্ধ²। এখানে π প্রায় ৩.১৪।
ত্রিভুজের ক্ষেত্রফলে উচ্চতা মানে ভূমির উপর লম্ব দূরত্ব, কোনো বাহু নয়। হেলানো ত্রিভুজে এই ভুলটা সবচেয়ে বেশি হয়।
একটা উদাহরণ
একটা ঘরের মেঝে ৫ মিটার লম্বা আর ৪ মিটার চওড়া।
পরিসীমা = ২ × (৫ + ৪) = ১৮ মিটার। ঘরের চারপাশে বর্ডার লাগাতে চাইলে এই মাপটা লাগবে।
ক্ষেত্রফল = ৫ × ৪ = ২০ বর্গমিটার। টাইলস কিনতে চাইলে এই মাপটা লাগবে।
একই ঘর, একই দুটো সংখ্যা, কিন্তু প্রশ্নটা আলাদা - আর সেটাই ঠিক করে দেয় কোন সূত্র লাগবে।
একই পরিসীমা, আলাদা ক্ষেত্রফল
একটা মজার ব্যাপার: পরিসীমা এক রেখেও ক্ষেত্রফল বদলানো যায়।
২০ মিটার তারের বেড়া দিয়ে ৮ বাই ২ মিটারের একটা বাগান ঘেরা যায়, ক্ষেত্রফল হবে ১৬ বর্গমিটার। একই তার দিয়ে ৫ বাই ৫ ঘেরা যায়, ক্ষেত্রফল ২৫ বর্গমিটার।
একই বেড়া, কিন্তু নয় বর্গমিটার বেশি জায়গা। আয়তক্ষেত্রে যত বেশি বর্গের কাছাকাছি আকার, ক্ষেত্রফল তত বেশি। আর সব আকৃতির মধ্যে বৃত্ত সবচেয়ে বেশি জায়গা ধরে।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
ক্ষেত্রফল ও পরিসীমার পার্থক্য কী?
পরিসীমা আকৃতির চারপাশের মোট দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল তার ভেতরের জায়গা। এককেও পার্থক্য: পরিসীমা মিটারে, ক্ষেত্রফল বর্গমিটারে।
ত্রিভুজের ক্ষেত্রফলের সূত্র কী?
½ × ভূমি × উচ্চতা। উচ্চতা মানে ভূমির উপর লম্ব দূরত্ব, কোনো হেলানো বাহু নয়।
বৃত্তের ক্ষেত্রফল কীভাবে বের করে?
π × ব্যাসার্ধের বর্গ। ব্যাস দেওয়া থাকলে আগে অর্ধেক করে ব্যাসার্ধ বের করতে হয় - এই ধাপটা প্রায়ই বাদ পড়ে।