ভুবন / বিজ্ঞান ও আবিষ্কার
ভুবন · Discovery
বিজ্ঞান ও আবিষ্কার
পরীক্ষা, আবিষ্কারক ও প্রযুক্তি
খোঁজার খেলা শেষ
★★★
দারুণ!
গোল ছবিগুলোয় ক্লিক করো · টেনে ঘোরাও · খুলে দেখো টানো
বিভাগ ০১
বিজ্ঞানের পদ্ধতি
পর্দায়স্লাইডার টানলে বিকারে বুদবুদ ওঠার হার বদলায় - বিক্রিয়া ধীরে বা দ্রুত হয়।
নিচের যেকোনোটিতে ক্লিক করো - ডানে তার পুরো কথা খুলবে
এই ভুবনে তোমার যাত্রা সবে শুরু।
সবকিছু এক জায়গায়
বিজ্ঞান ও আবিষ্কার ভুবনের পুরো তালিকা
৭টি বিভাগ, ৬৫টি বিষয়। নিচের যেকোনো শিরোনামে চাপলে ছোট লেখাটা খুলবে। পুরো লেখা আর তিনটি গভীরতা উপরের মডেলে।
অন্য ভুবন: মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞান রসায়ন উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ প্রকৃতি ও পরিবেশ খাদ্য ও পুষ্টি গণিত ব্যবসা ও টাকা ম্যানেজমেন্ট ভাষা সামাজিক দক্ষতা
বিভাগ ০১বিজ্ঞানের পদ্ধতি
স্লাইডার টানলে বিকারে বুদবুদ ওঠার হার বদলায় - বিক্রিয়া ধীরে বা দ্রুত হয়।
প্রশ্ন করাপ্রশ্ন করাবিজ্ঞানের শুরু
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম ধাপ হলো একটা কৌতূহলী প্রশ্ন করা - যেমন "গাছ কেন সূর্যের দিকে বাঁকে?"।
মজার তথ্যইতিহাসের অনেক বড় আবিষ্কার শুরু হয়েছিল একটা সাধারণ, শিশুসুলভ প্রশ্ন থেকে - "আপেল কেন গাছ থেকে নিচে পড়ে, ওপরে যায় না কেন?" এই প্রশ্ন থেকেই নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের সূচনা হয়েছিল বলে জনশ্রুতি আছে।
অনুমানঅনুমানসম্ভাব্য উত্তর
অনুমান (হাইপোথিসিস) হলো কোনো প্রশ্নের একটা সম্ভাব্য উত্তর, যা এখনো পরীক্ষা করে প্রমাণিত হয়নি।
মজার তথ্যবিজ্ঞানীরা প্রায়ই তাদের অনুমান ভুল প্রমাণিত হলে হতাশ হন না, বরং এটাকে নতুন কিছু শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেন - ভুল অনুমানও বিজ্ঞানের অগ্রগতির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পরীক্ষাপরীক্ষাঅনুমান যাচাই
পরীক্ষা হলো একটা পরিকল্পিত কার্যক্রম, যা দিয়ে কোনো অনুমান সত্যি না মিথ্যা তা যাচাই করা হয়।
মজার তথ্যএকই পরীক্ষা বারবার করে একই ফলাফল পাওয়া গেলে তবেই বিজ্ঞানীরা সেই ফলাফলের ওপর বেশি আস্থা রাখেন - এই পুনরাবৃত্তিযোগ্যতাই বিজ্ঞানকে নির্ভরযোগ্য করে তোলে।
পর্যবেক্ষণপর্যবেক্ষণযত্ন সহকারে দেখা
পর্যবেক্ষণ হলো পরীক্ষার সময় কী ঘটছে তা মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করা এবং সঠিকভাবে দেখা।
মজার তথ্যঅনেক বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয়েছে সতর্ক পর্যবেক্ষণ থেকে - পেনিসিলিনের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার ফ্লেমিং একটা নষ্ট হয়ে যাওয়া পরীক্ষার প্লেটে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেছিলেন, যা থেকেই বিশ্বখ্যাত ওষুধ আবিষ্কৃত হয়।
তথ্য লেখাতথ্য লেখারেকর্ড রাখা
পরীক্ষার সময় যা দেখা যায় বা পাওয়া যায় তা লিখে রাখা, যাতে পরে সেই তথ্য বিশ্লেষণ ও তুলনা করা যায়।
মজার তথ্যনাসার মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এত সূক্ষ্মভাবে তথ্য রেকর্ড করেন যে দশকের পর দশক আগে সংগ্রহ করা তথ্যও আজও নতুন গবেষণায় ব্যবহার করা যায়।
সিদ্ধান্তসিদ্ধান্ততথ্য থেকে উপসংহার
সিদ্ধান্ত হলো সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা, আসল অনুমানটা সত্যি ছিল নাকি মিথ্যা প্রমাণিত হলো।
মজার তথ্যবিজ্ঞানে "প্রমাণিত" শব্দটা সাবধানে ব্যবহার করা হয় - বেশিরভাগ বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তকে "বর্তমান তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা" হিসেবে দেখা হয়, যা নতুন তথ্য এলে বদলাতেও পারে।
পুনরাবৃত্তিপুনরাবৃত্তিবারবার যাচাই
পুনরাবৃত্তি মানে একই পরীক্ষা বারবার করে দেখা যে প্রতিবার একই ফলাফল আসে কিনা, যা ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
মজার তথ্যকিছু বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক দাবি পরে অন্য বিজ্ঞানীরা পুনরাবৃত্তি করে দেখতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা প্রমাণ করেছে সেই প্রথম দাবিটা ভুল ছিল - এভাবেই বিজ্ঞান নিজেকে সংশোধন করে।
ভুল থেকে শেখাভুল থেকে শেখাব্যর্থতাও তথ্য
কোনো পরীক্ষা প্রত্যাশামতো ফল না দিলে সেটা ব্যর্থতা নয়, বরং নতুন কিছু জানার একটা সুযোগ - বিজ্ঞানে এই মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মজার তথ্যবিখ্যাত উদ্ভাবক টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাল্ব বানাতে হাজারবারেরও বেশি ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন, আর তিনি বলতেন প্রতিটা ব্যর্থতা আসলে "এই পদ্ধতিটা কাজ করে না" জানার একটা মূল্যবান আবিষ্কার।
বিভাগ ০২ঘরে বসে পরীক্ষা
বেকিং সোডার আগ্নেয়গিরি ফুঁসছে, লেবুর ব্যাটারিতে বাতি জ্বলছে, গ্লাসে ঘনত্বের তিন স্তর, ছায়া ঘড়ি আর চুম্বক। স্লাইডার টানলে একেকটা পরীক্ষা সামনে আসে।
বেকিং সোডার আগ্নেয়গিরিআগ্নেয়গিরিবেকিং সোডা ও ভিনেগার
বেকিং সোডা আর ভিনেগার মিশিয়ে একটা মডেল আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে ফেনা উপচে পড়া দেখানো একটা জনপ্রিয় ঘরোয়া রাসায়নিক পরীক্ষা।
মজার তথ্যএই একই বিক্রিয়ার নীতিতে কিছু আগুন নেভানোর যন্ত্র (অগ্নি নির্বাপক) কাজ করে - দ্রুত তৈরি হওয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস আগুনের চারপাশে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
লেবুর ব্যাটারিলেবুর ব্যাটারিফলের বিদ্যুৎ
লেবুতে তামা আর দস্তার তার ঢুকিয়ে একটা সাধারণ ব্যাটারি বানানো যায়, যা সামান্য বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে।
মজার তথ্যপ্রথম দিকের ব্যাটারি (ভোল্টার পাইল) আবিষ্কারও প্রায় একই নীতিতে হয়েছিল - দুই ভিন্ন ধাতু আর একটা অ্যাসিডীয় তরল ব্যবহার করে, যা লেবুর ব্যাটারির মূল ধারণার সাথে মিলে যায়।
রংধনু কাগজরংধনু কাগজক্রোমাটোগ্রাফি
মার্কারের কালি ফিল্টার কাগজে দিয়ে সেই কাগজের এক প্রান্ত পানিতে ডোবালে কালি বিভিন্ন রঙে আলাদা হয়ে একটা রংধনুর মতো প্যাটার্ন তৈরি করে।
মজার তথ্যবিভিন্ন ব্র্যান্ডের কালো মার্কার এই পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন রঙের প্যাটার্ন দেখাতে পারে, কারণ প্রতিটা কোম্পানি ভিন্ন ভিন্ন রঙের সংমিশ্রণে কালো কালি তৈরি করে।
ঘনত্বের স্তরঘনত্বের স্তরভিন্ন তরলের ভাগ
মধু, ডিশ সোপ, পানি আর তেল একই গ্লাসে সাবধানে ঢাললে এরা নিজেদের আলাদা ঘনত্ব অনুযায়ী স্তরে স্তরে ভাগ হয়ে যায়।
মজার তথ্যসমুদ্রের অতি গভীরে যেখানে চাপ অনেক বেশি, সেখানেও পানির ভিন্ন তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার কারণে একইভাবে ভিন্ন স্তর তৈরি হতে পারে, যা এই ছোট্ট পরীক্ষার মতোই একটা প্রাকৃতিক ঘটনা।
বেলুন রকেটবেলুন রকেটক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা
একটা লম্বা সুতায় খড় গেঁথে তার সাথে ফোলানো বেলুন আটকে ছেড়ে দিলে বেলুন থেকে বাতাস বেরোনোর সাথে সাথে এটা সুতা বেয়ে ছুটে যায়।
মজার তথ্যবেলুন যত বেশি ফোলানো হয় (ভেতরে যত বেশি চাপ থাকে), সাধারণত সেটা তত জোরে ও দ্রুত ছুটে যায় - রকেট বিজ্ঞানের একটা মৌলিক নীতিই এই সহজ খেলনায় দেখা যায়।
অদৃশ্য কালিঅদৃশ্য কালিলেবুর রসের গোপন লেখা
লেবুর রস দিয়ে কাগজে লিখলে শুকিয়ে গিয়ে লেখাটা অদৃশ্য হয়ে যায়, কিন্তু পরে তাপ দিলে অক্ষরগুলো বাদামি হয়ে আবার দেখা যায়।
মজার তথ্যঐতিহাসিকভাবে গোপন বার্তা পাঠাতে এই ধরনের অদৃশ্য কালি ব্যবহারের প্রচলন ছিল, বিশেষত যুদ্ধের সময় গুপ্তচররা এই কৌশল ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়।
ডিম ভাসানোডিম ভাসানোঘনত্ব দিয়ে ভাসা-ডোবা
সাধারণ পানিতে কাঁচা ডিম ডুবে যায়, কিন্তু পানিতে যথেষ্ট লবণ মিশিয়ে দিলে সেই একই ডিম পানির ওপর ভাসতে শুরু করে।
মজার তথ্যমৃত সাগরের পানি এতটাই লবণাক্ত যে সেখানে মানুষও সাঁতার না জেনে সহজে ভেসে থাকতে পারে - এই একই ঘনত্বের নীতি সেখানে কাজ করে, শুধু অনেক বড় আকারে।
মেঘ বানানোমেঘ বানানোবোতলের ভেতরে মেঘ
একটা স্বচ্ছ বোতলে সামান্য গরম পানি আর একটু বরফ রেখে বোতল চেপে হঠাৎ ছেড়ে দিলে ভেতরে একটা ছোট মেঘের মতো ধোঁয়াশা দেখা যায়।
মজার তথ্যকিছু সংস্করণে বোতলের ভেতরে একটু ধোঁয়া (যেমন নিভিয়ে ফেলা ম্যাচের ধোঁয়া) দিলে সেই ধোঁয়ার কণাগুলো ঘনীভবনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে, যা মেঘটাকে আরও স্পষ্ট ও ঘন দেখায়।
ছায়া ঘড়িছায়া ঘড়িসূর্যের অবস্থানে সময়
মাটিতে একটা লাঠি পুঁতে তার ছায়ার দিক ও দৈর্ঘ্য দিনের বিভিন্ন সময়ে চিহ্নিত করলে একটা সাধারণ সূর্যঘড়ি বানানো যায়।
মজার তথ্যপ্রাচীনকালে ঘড়ি আবিষ্কারের অনেক আগে থেকেই মানুষ এই সূর্যঘড়ির নীতি ব্যবহার করে সময় বুঝত - মিশরীয় ও চীনা সভ্যতায় হাজার বছরেরও পুরনো সূর্যঘড়ির নিদর্শন পাওয়া গেছে।
চুম্বকের খেলাচুম্বকের খেলাঅদৃশ্য টান দেখা
একটা চুম্বক দিয়ে কাগজের নিচে রাখা লোহার গুঁড়া বা ছোট ক্লিপ নাড়াচাড়া করে চুম্বকের অদৃশ্য টান সরাসরি চোখে দেখা যায়।
মজার তথ্যদুটো চুম্বকের একই মেরু কাছে আনার চেষ্টা করলে একটা অদৃশ্য প্রতিরোধ অনুভব করা যায় - এই সহজ অনুভূতিটাই চৌম্বক বলের বাস্তব উপস্থিতির সবচেয়ে সরাসরি প্রমাণ।
… ৬০টি… ৬০টিআরও অনেক পরীক্ষা
ঘরে বসে করার মতো নিরাপদ ও মজার বিজ্ঞান পরীক্ষার সংখ্যা অনেক বেশি - এখানে দেখানো দশটা আসলে এমন প্রায় ষাটটা পরীক্ষার একটা ছোট নমুনা মাত্র।
মজার তথ্যবিশ্বজুড়ে অনেক বিজ্ঞান জাদুঘর ও শিক্ষা কেন্দ্র এই ধরনের ঘরোয়া পরীক্ষাগুলোকেই বড় পরিসরে প্রদর্শন করে দর্শকদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
বিভাগ ০৩পৃথিবী ও ভূতত্ত্ব
শিলা, খনিজের কেলাস, পাথরে চাপা জীবাশ্ম, ডাইনোসর, বরফযুগের হিমশৈল, মাটির স্তর আর সরে যাওয়া মহাদেশ। স্লাইডার টানলে একেকটা সামনে আসে।
শিলাশিলাপৃথিবীর কঠিন উপাদান
শিলা হলো এক বা একাধিক খনিজ পদার্থ দিয়ে গঠিত প্রাকৃতিক কঠিন পদার্থ, যা পৃথিবীর ভূত্বকের প্রধান উপাদান।
মজার তথ্যপৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো শিলার নমুনা প্রায় ৪০০ কোটি বছরেরও বেশি পুরনো বলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসের একটা জীবন্ত প্রমাণ।
খনিজখনিজশিলার গাঠনিক উপাদান
খনিজ হলো নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন ও কেলাস আকৃতিযুক্ত প্রাকৃতিক কঠিন পদার্থ, যা শিলা তৈরি করে - যেমন কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার।
মজার তথ্যসোনা, রুপা, হীরার মতো মূল্যবান খনিজ ছাড়াও লবণ ও চুনাপাথরের মতো প্রতিদিনের ব্যবহারের অনেক জিনিসও আসলে খনিজ থেকে পাওয়া হয়।
জীবাশ্মজীবাশ্মপ্রাচীন জীবনের ছাপ
জীবাশ্ম হলো প্রাচীনকালের প্রাণী বা উদ্ভিদের দেহাবশেষ বা ছাপ, যা পাথরে জমাট বেঁধে সংরক্ষিত হয়ে থাকে।
মজার তথ্যজীবাশ্ম হওয়া এতটাই বিরল একটা ঘটনা যে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পৃথিবীতে কখনো বেঁচে থাকা প্রাণীর মধ্যে অতি ক্ষুদ্র একটা অংশই জীবাশ্ম আকারে সংরক্ষিত হয়েছে।
ডাইনোসরডাইনোসরবিলুপ্ত বিশাল সরীসৃপ
ডাইনোসর ছিল পৃথিবীতে লাখ লাখ বছর আগে বাস করা বিশাল সরীসৃপের একটা দল, যা প্রায় ৬.৬ কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
মজার তথ্যবিজ্ঞানীরা এখন মনে করেন, আধুনিক পাখিরা আসলে একদল ডাইনোসরের সরাসরি বংশধর - অর্থাৎ কোনো অর্থে ডাইনোসর সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি, বরং পাখি হিসেবে আজও বেঁচে আছে।
বরফযুগবরফযুগপৃথিবী যখন হিমশীতল
বরফযুগ হলো পৃথিবীর ইতিহাসের এমন সময়কাল, যখন বৈশ্বিক তাপমাত্রা অনেক কমে গিয়েছিল আর বিশাল এলাকা বরফে ঢাকা ছিল।
মজার তথ্যম্যামথের মতো লোমশ প্রাণী বরফযুগের ঠান্ডা পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য বিশেষভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল, আর তাদের হিমায়িত দেহাবশেষ আজও সাইবেরিয়ার বরফের নিচে পাওয়া যায়।
মাটির স্তরমাটির স্তরভূপৃষ্ঠের নিচের ইতিহাস
মাটির নিচে বিভিন্ন গভীরতায় বিভিন্ন স্তর থাকে, যা বিভিন্ন সময়ে জমা হওয়া পলি, ছাই বা জৈব পদার্থ দিয়ে তৈরি।
মজার তথ্যপুরনো গাছের কাটা কাণ্ডের বলয় গুনে যেমন গাছের বয়স বোঝা যায়, ঠিক তেমনি মাটির স্তর গুনে ও বিশ্লেষণ করেও একটা এলাকার ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস আন্দাজ করা যায়।
কয়লা ও তেলকয়লা ও তেলপ্রাচীন জীবনের জ্বালানি
কয়লা আর তেল তৈরি হয়েছে লাখ লাখ বছর আগের মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে, যা মাটির নিচে চাপ ও তাপে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হয়েছে।
মজার তথ্যএকটা গাড়ির ট্যাংক ভর্তি পেট্রলে যে শক্তি থাকে, তা তৈরি হতে লেগেছে লাখ লাখ বছরের প্রাচীন সূর্যের আলো, যা প্রথমে উদ্ভিদ-প্রাণীর শরীরে জমা হয়েছিল, তারপর ধীরে ধীরে জ্বালানিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
মহাদেশের সরণমহাদেশের সরণধীর গতির মহাদেশ
মহাদেশের সরণ তত্ত্ব বলে, পৃথিবীর মহাদেশগুলো স্থির নয়, বরং লাখ লাখ বছর ধরে ধীরে ধীরে সরে চলেছে।
মজার তথ্যমহাদেশগুলো এখনও প্রতি বছর কয়েক সেন্টিমিটার করে সরছে, প্রায় আমাদের নখ বাড়ার সমান গতিতে - এই ধীর গতিই লাখ লাখ বছরে বিশাল ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটিয়ে দিতে পারে।
বিভাগ ০৪আবিষ্কার ও আবিষ্কারক
চাকা, বই, ছাপাখানা, ইঞ্জিনের গিয়ার, বাতি, টেলিফোন, উড়োজাহাজ, কম্পিউটার - বারোটা আবিষ্কার সার বেঁধে। স্লাইডার টানলে একেকটা সামনে আসে।
চাকাচাকামানব ইতিহাসের সেরা আবিষ্কার
চাকা আবিষ্কার প্রায় ছয় হাজার বছর আগে হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, যা ভারী জিনিস পরিবহন ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিপ্লব এনেছিল।
মজার তথ্যমজার বিষয় হলো, প্রাচীন আমেরিকার কিছু সভ্যতা (যেমন মায়া) চাকা সম্পর্কে জানলেও ভারী পরিবহনে এটা ব্যবহার করেনি, কারণ তাদের ভার বহনকারী প্রাণী (যেমন ঘোড়া) ছিল না।
লিখনলিখনচিন্তা সংরক্ষণের পদ্ধতি
লিখন পদ্ধতি আবিষ্কারের ফলে মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের চিন্তা, জ্ঞান আর ইতিহাস স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়।
মজার তথ্যলিখন পদ্ধতি ইতিহাসে বিভিন্ন সভ্যতায় স্বাধীনভাবে বেশ কয়েকবার আবিষ্কৃত হয়েছে বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করেন, যা প্রমাণ করে মানুষের চিন্তা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কতটা সর্বজনীন।
কাগজকাগজসহজলভ্য লেখার মাধ্যম
কাগজ আবিষ্কারের ফলে লেখালেখি অনেক সহজ ও সস্তা হয়ে যায়, যা এর আগে পাথর, পোড়ামাটি বা পশুর চামড়ায় লিখতে হতো।
মজার তথ্যকাগজ তৈরির মূল প্রযুক্তি (গাছের আঁশ থেকে পাল্প বানানো) আজও একই মূলনীতিতে চলে, যদিও আধুনিক কারখানায় এটা এখন অনেক বড় পরিসরে ও দ্রুত গতিতে করা হয়।
ছাপাখানাছাপাখানাজ্ঞান ছড়ানোর বিপ্লব
ছাপাখানা আবিষ্কারের ফলে একটা বই দ্রুত ও সস্তায় অনেক কপি বানানো সম্ভব হয়, যা জ্ঞান ছড়ানোর গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
মজার তথ্যছাপাখানায় ছাপা প্রথম দিকের বইগুলোর একটা (গুটেনবার্গ বাইবেল) আজ এতটাই মূল্যবান যে এর একটা সম্পূর্ণ কপি নিলামে বিপুল অর্থে বিক্রি হতে পারে।
বাষ্পীয় ইঞ্জিনবাষ্পীয় ইঞ্জিনশিল্প বিপ্লবের চালিকাশক্তি
বাষ্পীয় ইঞ্জিন পানি ফুটিয়ে তৈরি বাষ্পের চাপ ব্যবহার করে যন্ত্র চালানোর একটা প্রযুক্তি, যা শিল্প বিপ্লবের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল।
মজার তথ্যবাষ্পীয় ইঞ্জিনের কারণে তৈরি হওয়া প্রথম রেললাইন যাত্রার গতি সেই সময়ের মানুষদের কাছে এতটাই অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল যে অনেকে ভয় পেয়েছিলেন এত গতিতে ভ্রমণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিদ্যুৎবিদ্যুৎআধুনিক জীবনের ভিত্তি
বিদ্যুতের ব্যবহারিক প্রয়োগ আবিষ্কারের ফলে আলো, যোগাযোগ ও যন্ত্রপাতি চালানোর একটা সম্পূর্ণ নতুন যুগের সূচনা হয়।
মজার তথ্যবিদ্যুৎ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার আগে শহরের রাস্তা আলোকিত করতে গ্যাসের বাতি ব্যবহার হতো, আর বিদ্যুতের বাতি আসার পর রাতের শহরগুলোর চেহারা সম্পূর্ণ বদলে যায়।
টেলিফোনটেলিফোনদূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়া কণ্ঠস্বর
টেলিফোন আবিষ্কারের ফলে মানুষ প্রথমবারের মতো দূরের কারও কণ্ঠস্বর সরাসরি শুনতে পারার সুযোগ পায়, যা যোগাযোগে বিপ্লব আনে।
মজার তথ্যপ্রথম টেলিফোন কলে বলা হয়েছিল বলে জনশ্রুতি আছে, "মিস্টার ওয়াটসন, এখানে আসুন, আপনাকে দরকার" - এই সাধারণ বাক্যটাই যোগাযোগ প্রযুক্তির ইতিহাসে একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে আছে।
উড়োজাহাজউড়োজাহাজআকাশে ওড়ার স্বপ্নপূরণ
উড়োজাহাজ আবিষ্কারের ফলে মানুষের বহু পুরনো আকাশে ওড়ার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়, যা দূরের ভ্রমণকে আগের চেয়ে বহুগুণ দ্রুত করে দেয়।
মজার তথ্যবিশ শতকের শুরুতে বিমানে চড়ে ভ্রমণ করা অত্যন্ত বিরল ও ব্যয়বহুল ছিল, কিন্তু আজ প্রতিদিন লাখো মানুষ বিমানে চড়ে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করেন, যা মাত্র শতবর্ষের মধ্যে এক বিশাল পরিবর্তন।
টিকাটিকারোগ প্রতিরোধের ঢাল
টিকা শরীরে দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় জীবাণু প্রবেশ করিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সেই রোগের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায়, আসল রোগ না হয়েই।
মজার তথ্যটিকার মাধ্যমেই একমাত্র মানুষের রোগ (গুটিবসন্ত) পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
পেনিসিলিনপেনিসিলিনদুর্ঘটনাক্রমে পাওয়া ওষুধ
পেনিসিলিন হলো প্রথম আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিক, যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।
মজার তথ্যপেনিসিলিন আবিষ্কারের আগে সামান্য কাটাছেঁড়া থেকে হওয়া সংক্রমণও প্রাণঘাতী হতে পারত, কিন্তু এই একটা আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানে "অ্যান্টিবায়োটিক যুগ"-এর সূচনা করে দেয়।
কম্পিউটারকম্পিউটারগণনার যন্ত্র থেকে সর্বজনীন যন্ত্র
কম্পিউটার প্রথমে জটিল গাণিতিক হিসাব দ্রুত করার জন্য তৈরি হলেও পরে এটা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, যোগাযোগ ও বিনোদনসহ প্রায় সব কাজের একটা সর্বজনীন যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
মজার তথ্যএকটা আধুনিক স্মার্টফোনের গণনাক্ষমতা ১৯৬৯ সালে চাঁদে মানুষ পাঠানো নাসার সব কম্পিউটারের মিলিত ক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা হিসাব করে দেখিয়েছেন।
ইন্টারনেটইন্টারনেটবিশ্বব্যাপী সংযোগ
ইন্টারনেট হলো সারা বিশ্বের কোটি কোটি কম্পিউটারকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা একটা বিশাল নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান হয়।
মজার তথ্যইন্টারনেট আসার পর মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা - প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্র এতটাই বদলে গেছে যে ইতিহাসবিদরা একে শিল্প বিপ্লবের সাথে তুলনীয় একটা মানব সভ্যতার বিরাট মোড় বলে মনে করেন।
বিভাগ ০৫বাঙালি বিজ্ঞানী
সাতজন বাঙালি বিজ্ঞানী সার বেঁধে দাঁড়ানো। স্লাইডার টানলে একেকজন সামনে আসেন, আর ক্লিক করলে তিনি কী আবিষ্কার করেছিলেন তা খোলে।
জগদীশচন্দ্র বসুজগদীশচন্দ্র বসুউদ্ভিদের অনুভূতি আবিষ্কারক
জগদীশচন্দ্র বসু একজন প্রখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী, যিনি প্রমাণ করেছিলেন গাছেরও উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা আছে।
মজার তথ্যজগদীশচন্দ্র বসু প্রথম ভারতীয় বিজ্ঞানী, যাঁর নামে চাঁদের একটা গহ্বরের নামকরণ করা হয়েছে, যা তাঁর বৈজ্ঞানিক অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটা প্রমাণ।
সত্যেন্দ্রনাথ বসুসত্যেন্দ্রনাথ বসুবোসন কণার নামকরণের উৎস
সত্যেন্দ্রনাথ বসু একজন বিখ্যাত বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী, যাঁর গবেষণা কণা পদার্থবিজ্ঞানে একটা মৌলিক ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিল।
মজার তথ্যসত্যেন্দ্রনাথ বসুর মূল গবেষণাপত্রটি প্রথমে প্রকাশকরা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কিন্তু তিনি সরাসরি আইনস্টাইনকে সেটা পাঠান, আর আইনস্টাইন এর গুরুত্ব বুঝে নিজে অনুবাদ করে প্রকাশে সাহায্য করেছিলেন।
প্রফুল্লচন্দ্র রায়প্রফুল্লচন্দ্র রায়বাংলার রসায়নের জনক
প্রফুল্লচন্দ্র রায় একজন বিখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ, যিনি ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক রসায়ন গবেষণা ও শিক্ষার ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
মজার তথ্যপ্রফুল্লচন্দ্র রায় তাঁর সারাজীবনের আয়ের একটা বড় অংশ বিজ্ঞান শিক্ষা ও বৃত্তির জন্য দান করে দিয়েছিলেন, যা তাঁর সাদাসিধে জীবনযাপন ও সমাজের প্রতি নিবেদনের পরিচয় দেয়।
মেঘনাদ সাহামেঘনাদ সাহাতারার তাপমাত্রা বোঝার সূত্র
মেঘনাদ সাহা একজন বাঙালি জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী, যিনি তারার তাপমাত্রা ও আলোর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করার একটা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র তৈরি করেছিলেন।
মজার তথ্যমেঘনাদ সাহা বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি ভারতে বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ও নদী ব্যবস্থাপনার (যেমন বন্যা নিয়ন্ত্রণ) মতো ব্যবহারিক বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
ফজলুর রহমান খানফজলুর রহমান খানআধুনিক আকাশচুম্বী ভবনের প্রকৌশলী
ফজলুর রহমান খান একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্থাপত্য প্রকৌশলী, যাঁর উদ্ভাবিত কাঠামোগত পদ্ধতি আধুনিক আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে বিপ্লব ঘটিয়েছে।
মজার তথ্যফজলুর রহমান খানকে অনেকে "আকাশচুম্বী ভবনের আইনস্টাইন" বলে অভিহিত করেন, কারণ তাঁর গাণিতিক দক্ষতা আর প্রকৌশল প্রতিভা মিলিয়ে তিনি ভবন নির্মাণের ধারণাকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন।
আব্দুল্লাহ আল-মুতীআব্দুল্লাহ আল-মুতীবিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের পথিকৃৎ
আব্দুল্লাহ আল-মুতী একজন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ, যিনি বাংলা ভাষায় সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে বিজ্ঞান লেখার জন্য বিখ্যাত।
মজার তথ্যআব্দুল্লাহ আল-মুতীর লেখা বইগুলো এতটাই জনপ্রিয় যে বাংলাদেশের অনেক বিজ্ঞানী তাঁদের ছোটবেলায় বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহের শুরু এই বইগুলো পড়েই হয়েছিল বলে স্মরণ করেন।
মাকসুদুল আলমমাকসুদুল আলমপাটের জিনোম উন্মোচনকারী
মাকসুদুল আলম একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জিনতত্ত্ববিদ, যিনি পাট গাছের সম্পূর্ণ জিনগত গঠন (জিনোম) আবিষ্কার করে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পান।
মজার তথ্যমাকসুদুল আলমের এই আবিষ্কার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছিল, কারণ এটা দেখিয়েছিল বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাও জিনতত্ত্বের মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রে বিশ্বমানের গবেষণা করতে সক্ষম।
বিভাগ ০৬প্রযুক্তি ও কম্পিউটার
স্লাইডার টানলে নেটওয়ার্কে আলোর বিন্দু দ্রুত ঘুরতে থাকে - ডেটা চলাচলের মতো।
কম্পিউটার কীভাবে কাজ করেকম্পিউটার কীভাবে কাজ করেনির্দেশনা মেনে চলা যন্ত্র
কম্পিউটার মূলত একটা যন্ত্র, যা মানুষের দেওয়া নির্দিষ্ট নির্দেশনা (প্রোগ্রাম) অনুযায়ী দ্রুত গতিতে গণনা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে।
মজার তথ্যএকটা আধুনিক স্মার্টফোনের প্রসেসর ১৯৬৯ সালে চাঁদে অ্যাপোলো মিশন পরিচালনাকারী কম্পিউটারের চেয়ে হাজার হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী।
ইনপুট ও আউটপুটইনপুট ও আউটপুটতথ্য ঢোকা ও বের হওয়া
ইনপুট মানে কম্পিউটারে তথ্য দেওয়ার উপায় (যেমন কিবোর্ড, মাউস), আর আউটপুট মানে কম্পিউটার থেকে ফলাফল পাওয়ার উপায় (যেমন স্ক্রিন, স্পিকার)।
মজার তথ্যপ্রথম দিকের কম্পিউটারে ইনপুট দিতে পাঞ্চ করা কার্ড ব্যবহার হতো, যেখানে ছিদ্রের প্যাটার্ন দিয়ে তথ্য এনকোড করা থাকত - আজকের কিবোর্ডের তুলনায় এটা ছিল অনেক ধীর ও কষ্টসাধ্য পদ্ধতি।
মেমোরিমেমোরিতথ্য সংরক্ষণের জায়গা
মেমোরি হলো কম্পিউটারের সেই অংশ, যেখানে তথ্য ও প্রোগ্রাম সংরক্ষণ করা হয়, যাতে প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহার করা যায়।
মজার তথ্যপ্রথম দিকের কম্পিউটার মেমোরির আকার এত ছোট ছিল যে পুরো একটা প্রোগ্রামের জন্য যে জায়গা লাগত, তা আজকের একটামাত্র ছোট ছবির চেয়েও কম হতে পারত।
ইন্টারনেটইন্টারনেটবিশ্বব্যাপী কম্পিউটার নেটওয়ার্ক
ইন্টারনেট হলো সারা বিশ্বের কোটি কোটি কম্পিউটার ও ডিভাইসকে একসাথে যুক্ত করা একটা বিশাল নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান হয়।
মজার তথ্যইন্টারনেটে প্রতি মিনিটে এত বিপুল পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান হয় (ভিডিও, বার্তা, ছবি) যে এই পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ করতে অতীতের বিশ্বের সব গ্রন্থাগারের চেয়েও বেশি জায়গা লাগত।
ওয়েবসাইটওয়েবসাইটইন্টারনেটের ঠিকানা
ওয়েবসাইট হলো ইন্টারনেটে থাকা একটা তথ্যপূর্ণ পাতা বা পাতাগুলোর সমষ্টি, যা যেকোনো জায়গা থেকে ব্রাউজারের মাধ্যমে দেখা যায়।
মজার তথ্যপৃথিবীর প্রথম ওয়েবসাইট এখনো ইন্টারনেটে সংরক্ষিত আছে এবং যে কেউ চাইলে সেটা দেখতে পারে - এটা মূলত ইন্টারনেট কী তা ব্যাখ্যা করার একটা সাধারণ পাতা ছিল।
কোডিং হাতেখড়িকোডিং হাতেখড়িকম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়া
কোডিং মানে কম্পিউটারকে বোঝার মতো একটা নির্দিষ্ট ভাষায় (প্রোগ্রামিং ভাষা) ধাপে ধাপে নির্দেশনা লিখে দেওয়া, যাতে সে সেই কাজগুলো করতে পারে।
মজার তথ্যবিশ্বের অনেক দেশে এখন স্কুল পাঠ্যক্রমে ছোটবেলা থেকেই মৌলিক কোডিং শেখানো শুরু হয়েছে, ঠিক যেমন গণিত বা ভাষা শেখানো হয়, কারণ এটাকে ভবিষ্যতের একটা গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক দক্ষতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যালগরিদমঅ্যালগরিদমধাপে ধাপে সমাধান
অ্যালগরিদম হলো কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে সাজানো একটা পরিষ্কার নির্দেশনার তালিকা, যা প্রোগ্রামের মূল ভিত্তি।
মজার তথ্যফোনের ম্যাপ অ্যাপ যখন দুই জায়গার মধ্যে সবচেয়ে ছোট পথ বের করে, তখন এটা আসলে একটা জটিল অ্যালগরিদম ব্যবহার করছে, যা হাজার হাজার সম্ভাব্য পথের মধ্যে থেকে সেরাটা খুঁজে বের করে মুহূর্তেই।
রোবটরোবটকাজ করা যন্ত্র
রোবট হলো এমন একটা যন্ত্র, যা প্রোগ্রাম করা নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শারীরিক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
মজার তথ্যমহাকাশে পাঠানো রোবট (যেমন মঙ্গল গ্রহে চলা রোভার) এত দূর থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় (সংকেত পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে), তাই এদের অনেকটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে প্রোগ্রাম করা হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাশেখার ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) হলো এমন কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা প্রচুর তথ্য থেকে প্যাটার্ন শিখে নতুন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে বা কাজ করতে পারে।
মজার তথ্যকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন দাবা বা গোর মতো জটিল খেলায় বিশ্বসেরা মানব খেলোয়াড়দের হারাতে সক্ষম হয়েছে, যা কয়েক দশক আগেও অকল্পনীয় মনে হতো।
ভালো-খারাপ ব্যবহারভালো-খারাপ ব্যবহারদায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহার
প্রযুক্তি (কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ফোন) খুবই উপকারী হলেও এর ভালো ও খারাপ দুই ধরনের ব্যবহার হতে পারে, তাই দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা জরুরি।
মজার তথ্যঅনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতারাই তাদের নিজের সন্তানদের স্ক্রিন টাইম কঠোরভাবে সীমিত রাখেন বলে জানা যায়, যা প্রযুক্তি ব্যবহারে ভারসাম্য রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।
বিভাগ ০৭পরিমাপের যন্ত্র
থার্মোমিটার, দাঁড়িপাল্লা, স্কেল, মাইক্রোস্কোপ, দূরবীন, কম্পাস, ঘড়ি - প্রতিটি যন্ত্র তার নিজের চেহারায়। স্লাইডার টানলে একেকটা সামনে আসে।
থার্মোমিটারথার্মোমিটারতাপমাত্রা মাপা
থার্মোমিটার তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র - এটা দিয়ে শরীর, বাতাস বা পানির তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে জানা যায়।
মজার তথ্যআবহাওয়াবিদরা বিশেষ থার্মোমিটার ব্যবহার করেন যা সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড করে রাখে, দিনের যেকোনো সময়ের চরম তাপমাত্রা জানতে।
দাঁড়িপাল্লাদাঁড়িপাল্লাওজন মাপা
দাঁড়িপাল্লা কোনো জিনিসের ওজন মাপার একটা যন্ত্র - দোকানে, রান্নাঘরে বা ল্যাবে বিভিন্ন ধরনের দাঁড়িপাল্লা ব্যবহৃত হয়।
মজার তথ্যমহাকাশে ওজনহীন অবস্থায় সাধারণ দাঁড়িপাল্লা কাজ করে না, তাই নভোচারীদের ওজন মাপতে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যা ভরের সাথে সম্পর্কিত অন্য একটা ভৌত ধর্ম মাপে।
স্কেলস্কেলদৈর্ঘ্য মাপা
স্কেল বা রুলার দৈর্ঘ্য মাপার একটা সহজ যন্ত্র, যাতে সেন্টিমিটার ও ইঞ্চির মতো একক চিহ্নিত থাকে।
মজার তথ্যনাসার একটা মহাকাশযান একবার হারিয়ে গিয়েছিল কারণ দুটো ভিন্ন দল একই প্রকল্পে দুই ভিন্ন একক (মেট্রিক ও ইম্পেরিয়াল) ব্যবহার করে হিসাব করেছিল, যা একটা বড় ভুল তৈরি করে।
মাইক্রোস্কোপমাইক্রোস্কোপক্ষুদ্র জিনিস দেখা
মাইক্রোস্কোপ এমন একটা যন্ত্র, যা অত্যন্ত ছোট জিনিস (যেমন কোষ বা ব্যাকটেরিয়া) বহুগুণ বড় করে দেখায়, যা খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়।
মজার তথ্যমাইক্রোস্কোপ আবিষ্কারের ফলেই বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জীব দেখতে পান, যা রোগের প্রকৃত কারণ বুঝতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটিয়েছিল।
দূরবীনদূরবীনদূরের জিনিস দেখা
দূরবীন এমন একটা যন্ত্র, যা অনেক দূরের জিনিস (যেমন তারা বা পাখি) কাছে ও বড় করে দেখায়।
মজার তথ্যমহাকাশে পাঠানো দূরবীন (যেমন হাবল স্পেস টেলিস্কোপ) বায়ুমণ্ডলের প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট ছবি তুলতে পারে, যা পৃথিবীর মাটি থেকে সম্ভব নয়।
কম্পাসকম্পাসদিক নির্ণয়
কম্পাস হলো একটা যন্ত্র, যার কাঁটা সবসময় উত্তর-দক্ষিণ দিক দেখায়, যা পথ খুঁজতে দিক নির্ণয়ে সাহায্য করে।
মজার তথ্যসমুদ্রযাত্রায় কম্পাস আবিষ্কারের আগে নাবিকরা মূলত তারার অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করতেন, যা মেঘলা রাতে বা দিনের বেলা কাজ করত না - কম্পাস আবিষ্কার নৌ-চলাচলে বিশাল বিপ্লব এনেছিল।
ঘড়িঘড়িসময় মাপা
ঘড়ি সময় মাপার একটা যন্ত্র, যা ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড হিসাব করে সময় দেখায়।
মজার তথ্যজিপিএস নেভিগেশন সিস্টেম কাজ করে স্যাটেলাইটে থাকা অতি নির্ভুল পারমাণবিক ঘড়ির ওপর ভিত্তি করে - সময়ের অতি সামান্য পার্থক্যও অবস্থান নির্ণয়ে বড় ভুল তৈরি করতে পারে।
ব্যারোমিটারব্যারোমিটারবাতাসের চাপ মাপা
ব্যারোমিটার বাতাসের চাপ মাপার একটা যন্ত্র, যা আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মজার তথ্যসমুদ্রপৃষ্ঠে বাতাসের স্বাভাবিক চাপকে ভিত্তি ধরে "১ অ্যাটমোস্ফিয়ার" বলা হয়, যা বিভিন্ন উচ্চতা বা স্থানের চাপ তুলনা করার একটা প্রমিত মান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
স্টপওয়াচস্টপওয়াচক্ষণস্থায়ী সময় মাপা
স্টপওয়াচ এমন একটা ঘড়ি, যা কোনো নির্দিষ্ট কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঠিক কতটুকু সময় লাগল তা নির্ভুলভাবে মাপতে ব্যবহৃত হয়।
মজার তথ্যঅলিম্পিক দৌড় প্রতিযোগিতায় এখন এত নিখুঁত ইলেকট্রনিক টাইমিং ব্যবহার করা হয় যে দুইজন দৌড়বিদের সময়ের পার্থক্য মানুষের চোখে দেখেও বোঝা না গেলেও যন্ত্র ঠিকই নির্ভুলভাবে বিজয়ী নির্ধারণ করতে পারে।