পসরা / লেখা / গাছ, প্রাণী ও শরীর
গাছ, প্রাণী ও শরীর
প্রাণীর শ্রেণিবিভাগ: মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী
প্রাণীজগতের প্রথম বড় ভাগটা মেরুদণ্ড দিয়ে: যাদের মেরুদণ্ড আছে তারা মেরুদণ্ডী, আর যাদের নেই তারা অমেরুদণ্ডী।
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, পৃথিবীর প্রাণীর বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই অমেরুদণ্ডী - পোকা, কেঁচো, শামুক, প্রজাপতি। মেরুদণ্ডীরা সংখ্যায় অনেক কম, শুধু আকারে বড় বলে বেশি চোখে পড়ে।
পাঁচটি মেরুদণ্ডী শ্রেণি
স্তন্যপায়ী: গায়ে লোম, বাচ্চা দেয় আর দুধ খাওয়ায়, ফুসফুসে শ্বাস নেয়, উষ্ণ রক্তের। বাঘ, হাতি, বানর, বাদুড়, শুশুক, আর মানুষ।
পাখি: গায়ে পালক, ডিম পাড়ে, ঠোঁট আছে দাঁত নেই, উষ্ণ রক্তের। দোয়েল, মাছরাঙা, শকুন। সব পাখি ওড়ে না, কিন্তু সব পাখিরই পালক আছে।
সরীসৃপ: গায়ে শুকনো আঁশ, ডিম পাড়ে, ফুসফুসে শ্বাস নেয়, শীতল রক্তের। কুমির, সাপ, কচ্ছপ, গুইসাপ।
উভচর: জীবনের শুরু পানিতে ফুলকায় শ্বাস নিয়ে, পরে ডাঙায় ফুসফুসে। চামড়া ভেজা ও পাতলা। ব্যাঙ, সালামান্ডার।
মাছ: ফুলকায় শ্বাস নেয়, গায়ে আঁশ, পাখনা দিয়ে সাঁতরায়, শীতল রক্তের। ইলিশ, রুই, কাতলা।
শুশুক মাছ নয়
পদ্মা-মেঘনার শুশুক পানিতে থাকে, দেখতে মাছের মতো, নামেও অনেকে মাছ বলেন। কিন্তু সে স্তন্যপায়ী।
কারণ তিনটে: সে ফুসফুসে শ্বাস নেয় তাই বাতাস নিতে ভেসে উঠতে হয়, সে বাচ্চা দেয় ডিম নয়, আর বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়।
আরেকটা সহজ চিহ্ন আছে: মাছের লেজের পাখনা খাড়া, আর শুশুক বা ডলফিনের লেজ শোয়ানো। স্তন্যপায়ীর মেরুদণ্ড উপর-নিচে বাঁকে, মাছের ডানে-বাঁয়ে।
একই ভুল হয় তিমি নিয়েও, আর একই কারণে। আর বাদুড়ের বেলায় উল্টো: সে ওড়ে বলে অনেকে পাখি ভাবেন, কিন্তু তার পালক নেই, লোম আছে, আর সে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়।
শীতল রক্ত আর উষ্ণ রক্ত
উষ্ণ রক্তের প্রাণী নিজের শরীরের তাপমাত্রা নিজেই ধরে রাখে, বাইরে যত ঠান্ডা বা গরমই হোক। এর জন্য অনেক খাবার লাগে, কারণ তাপটা খাবার পুড়িয়েই তৈরি হয়।
শীতল রক্তের প্রাণীর শরীরের তাপমাত্রা চারপাশের সঙ্গে বদলায়। তাই সকালে রোদে গা গরম করতে হয়, কিন্তু খাবার লাগে অনেক কম।
এই কারণেই সাপ বা কুমির সপ্তাহে একবার খেয়েও চলতে পারে, আর একটা ছোট পাখিকে দিনে বহুবার খেতে হয়।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
মেরুদণ্ডী প্রাণী কয় শ্রেণির?
পাঁচ শ্রেণির: স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ, উভচর ও মাছ।
ব্যাঙ কোন শ্রেণির প্রাণী?
উভচর। জীবনের শুরুতে ব্যাঙাচি হয়ে পানিতে ফুলকায় শ্বাস নেয়, পরে ফুসফুস গজিয়ে ডাঙায় ওঠে। দুই জীবন, তাই উভচর।
তিমি কি মাছ?
না, স্তন্যপায়ী। ফুসফুসে শ্বাস নেয়, বাচ্চা দেয় আর দুধ খাওয়ায়।